নীলফামারীর ডিমলায় ভিজিডি’র চুরান্ত তালিকায় নাম থাকলেও চাল পাচ্ছে না হতদরিদ্র নারীরা - Simanto Times
Latest:
simantotimes24

Today: 25 Sep 2021 - 04:13:35 pm

নীলফামারীর ডিমলায় ভিজিডি’র চুরান্ত তালিকায় নাম থাকলেও চাল পাচ্ছে না হতদরিদ্র নারীরা

Published on Monday, August 2, 2021 at 5:08 am 77 Views

নীলফামারীর ডিমলায় ভিজিডি’র চুরান্ত তালিকায় নাম থাকলেও চাল পাচ্ছে না হতদরিদ্র নারীরা

নিজস্ব প্রতিনিধি, নীলফামারী : দেশের হতদরিদ্র,দু:স্ত ও অসহায় মহিলাদের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের নানা মূখী উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে অতিদরিদ্র কর্মসুচীর আওতায় গ্রামীন হতদরিদ্র নারীদের ভিজিডি কার্ডের মাধ্যমে প্রতি মাসে ৩০ কেজী চাল বিতরণ করা হয় সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে। অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধে সরকারের সকল কার্যক্রম এখন ডিজিটাল করা হয়েছে। ফলে এ কর্মসূচীর আওতায় এসব হতদরিদ্র নারীদের এবারে অনলাইনে আবেদনের মাধ্যমে চুরান্ত করা হয় নামের তালিকা। সেই চুরান্ত তালিকা অনুযায়ী চাল বিতরণ করা হয় ভিজিডি কার্ডধারীদের মাঝে। নীলফামারীর ডিমলা উপজেলা টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নে অনিয়ম ও দূর্নীতির মাধ্যমে কার্ডধারীদের ভিজিডি কার্ড না দিয়ে সেই কার্ডের চাল উত্তোলণ করা হচ্ছে ৬ মাস ধরেই বলে অভিযোগ উঠেছে।

জেলা প্রশাসক, নীলফামারীর বরাবরে মোছা: আছিয়া, সালমা, হামিদা, শাহিনা, তহমিনা, ধৌলীজা, মাজেদা, শিল্পি আক্তার, রোকেয়া, লাকী, আহিয়া, পারভীন, রশিদা, মোরশেদা, আতোয়ারা, সাজেদা, পারভীন, ময়না ও মোছা: হালিমা বেগম হতদরিদ্র নারীদের চুরান্ত তালিকায় নাম থাকায় উল্লেখিত ২০ জন নারীর স্বাক্ষরিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উক্ত ইউনিয়নের উদ্যোক্তা মিজানুর রহমান সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানকে ম্যানেজ করে অনিয়ম ও দূর্নীতি করে ভিজিডি কার্ডের চাল আত্বসাৎ করে আসছেন। তাদের অভিযোগ, উপকারভোগী কার্ডধারীরা অনলাইনে আবেদনের সময় উদ্যোক্তা মিজানুর রহমানকে ৫’শ টাকা করে প্রদান করেন। তিনি আরো ৫ হাজার টাকা দাবী করেন। অভিযোগে বলা হয়, ৯নং টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের স্থায়ী বাসিন্দারা আবেদন করেন ভিজিডি কার্ডের জন্য। ২০২১-২২ অর্থ বছরে ভিজিডি চক্রে উপকারভোগীর তালিকা প্রণয়ন ও চুরান্ত তালিকায় কার্ডধারী বঞ্চিত নারীরা এমআইএস ফরমে অর্ন্তভুক্ত হলে ইউনিয়ন ও উপজেলা ভিজিডি কমিটি চুরান্ত অনুমোদন দেন। কিন্তু উপকারভোগী কার্ডধারী নারীরা দীর্ঘদিন ধরে ইউপি চেয়ারম্যান ময়নুল হক ও উদ্যোক্তা মিজানুর রহমানের কাছে ধর্ণা দিয়েও তাদের নাম চুরান্ত তালিকায় আছে কিনা তা জানতে পারেননি। পরবর্তীতে এসব হতদরিদ্র নারীরা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করে তালিকা উত্তোলন করে জানতে পারেন তাদের নাম চুরান্ত তালিকায় রয়েছে। কিন্তু তারা কার্ড হাতে পাননি। তাদের প্রতিমাসের চাল উত্তোলন করে উদ্যোক্তা মিজানুর রহমানসহ একটি মহল ভাগবাটোয়া করে নেন।

এর পরেই চুরান্ত তালিকায় নাম থাকা হতদরিদ্র নারীরা গত ২৫ জুন/২১ ইং তারিখে লিখিত অভিযোগের মাধ্যমে জেলা প্রশাসক বরাবরে কার্ড ও চাল ফেরত এবং তদন্তের মাধ্যমে বিচার দাবী করেন। ইউনিয়ন পরিষদের সংশ্লিষ্টদের এ দূর্নীতি ও অনিয়মের খবর দ্রæতই গোটা উপজেলায় ছড়িয়ে পড়লে আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠে। ভিজিডি কার্ড উপজেলা কমিটি টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নে ৯টি ওয়ার্ডের ৩৩৬ জন উপকারভোগী হতদরিদ্র নারীর নাম চুরান্ত করে তালিকা অনুমোদন করেন। অনুমোদনকৃত তালিকা থেকে দেখা গেছে, সেখানে ১৭ জনের নাম ও ভোটার আউডি নম্বর থাকলেও পিতা/স্বামীর স্থলে নাম নাই (ফাঁকা) লেখা রয়েছে। একই তালিকার নাম ও ঠিকানা রয়েছে এমন ২০ জনের কার্ড না দিয়ে ঐ কার্ডগুলির চাল উত্তোলন করে আত্বসাৎ করা হয়েছে (৬ মাসের চাল)। চুরান্ত তালিকায়- ক্রমিক নং ১১,শিল্পী আক্তার ( ২৫), জাতীয় পরিচয় পত্র নম্বর-৮৬৫৪৭১১৯৫৪, পরিবারের সদস্য সংখ্যা-৬,ওয়ার্ড নং-৯, গ্রাম- দক্ষিন খড়িবাড়ী , স্বামী/ অভিভাবকের নাম- ফাঁকা । ক্রমিক নং ১৯ ,সুমি আক্তার ( ২৪), জাতীয় পরিচয় পত্র নম্বর-৫০৮৯০১১৯৭৬, পরিবারের সদস্য সংখ্যা-৫,ওয়ার্ড নং-৬, গ্রাম- পূর্ব খড়িবাড়ী , স্বামী/ অভিভাবকের নাম- ফাঁকা । ক্রমিক নং ১৮,তইরন বেগম (২৬), জাতীয় পরিচয় পত্র নম্বর-৯১৩২২০৯২৯৫, পরিবারের সদস্য সংখ্যা-৪,ওয়ার্ড নং-৫, গ্রাম- পুর্ব খড়িবাড়ী , স্বামী/ অভিভাবকের নাম- ফাঁকা । ক্রমিক নং ১২, মাফুজা আক্তার ( ২৫), জাতীয় পরিচয় পত্র নম্বর-৯১৫২৫৯১৭০৮, পরিবারের সদস্য সংখ্যা-৫,ওয়ার্ড নং-১, গ্রাম- চর খড়িবাড়ী , স্বামী/ অভিভাবকের নাম- ফাঁকা । ক্রমিক নং ১৯, তাহেরা বেগম ( ২৬), জাতীয় পরিচয় পত্র নম্বর-৩৭৫৫৪৫৯১৬৫, পরিবারের সদস্য সংখ্যা-৫,ওয়ার্ড নং-১, গ্রাম- চর খড়িবাড়ী , স্বামী/ অভিভাবকের নাম- ফাঁকা । ক্রমিক নং ২১,ফুলজান আকতার ( ২২), জাতীয় পরিচয় পত্র নম্বর-৮২৫৩০৭৪৪০৮, পরিবারের সদস্য সংখ্যা-১,ওয়ার্ড নং-১, গ্রাম- চর খড়িবাড়ী , স্বামী/ অভিভাবকের নাম- ফাঁকা । ক্রমিক নং-৩ ,সামছুন নাহার ( ২৫), জাতীয় পরিচয় পত্র নম্বর-৮৭০২৫৯৯৩৭৭, পরিবারের সদস্য সংখ্যা-৬,ওয়ার্ড নং-৮, গ্রাম- দক্ষিন খড়িবাড়ী , স্বামী/ অভিভাবকের নাম- ফাঁকা । ক্রমিক নং ১১,রেহেনা খাতুন ( ২১), জাতীয় পরিচয় পত্র নম্বর-৬৯০৫৯৭০৯৮১, পরিবারের সদস্য সংখ্যা-৬,ওয়ার্ড নং-৮, গ্রাম- দক্ষিন খড়িবাড়ী , স্বামী/ অভিভাবকের নাম- ফাঁকা । ক্রমিক নং ৫৬,মোছা:খাতিজা আক্তার (২১), জাতীয় পরিচয় পত্র নম্বর-৩৭৬১৯৭২০৭৮, পরিবারের সদস্য সংখ্যা-৩,ওয়ার্ড নং-৮, গ্রাম- দক্ষিন খড়িবাড়ী , স্বামী/ অভিভাবকের নাম- ফাঁকা । ক্রমিক নং ৫, জেসমিন আক্তার ( ৩২), জাতীয় পরিচয় পত্র নম্বর-১৯৮৮৭৩১১২৯৫০০০০১৩, পরিবারের সদস্য সংখ্যা-৭,ওয়ার্ড নং-৭, গ্রাম- দক্ষিন খড়িবাড়ী , স্বামী/ অভিভাবকের নাম- ফাঁকা । চুরান্ত তালিকায় নাম থাকলেও চাল পায়নি এমন কয়েক জনের সাথে কথা বললে তারা জানান, ধৌলিজা বেগম (৪১), অভিভাবকের নাম- মনির উদ্দিন, জাতীয় পরিচয় পত্র নম্বর-১৯৭৯৭৩১১২৯৫৪৫৯৪৬৩ ওয়ার্ড নং-৯, গ্রাম- দক্ষিণ খড়িবাড়ী, ভিজিডি কার্ড নং-৫৪ অভিযোগ করে বলেন, টাকা দিছি কাদের চৌকিদারকে ৬ হাজার আর মিজানুরকে দিয়েছি ৫’শ এখন কার্ডও নাই টাকাও নাই। এখন শুনছি আমার কার্ড দিয়া নাকি ওমরায় চাউল উঠাইছে। মোছা: পারভীন আক্তার (৩৪), অভিভাবকের নাম- শাহানুর, জাতীয় পরিচয় পত্র নম্বর-১৯৮৬৭৩১১২৯৫৪৫৫০০৮ ওয়ার্ড নং-৬, গ্রাম- পুর্ব খড়িবাড়ী, ভিজিডি কার্ড নং-০৯ অভিযোগ করে বলেন, আমি অনেক বার চালের জন্য কাউন্সেলে গেছিলাম আমাকে চেয়ারম্যান বলছে তোমার কার্ড হয়নি। তুমি চাল পাবে না। এখন দেখছি আমারও কার্ড হইছে চাল তুলে খাইছে। আছিয়া বেগম (২৪), অভিভাবকের নাম- নুর জামাল, জাতীয় পরিচয় পত্র নম্বর-৫০৭৮৬৯০৫০৯ ওয়ার্ড নং-৬, গ্রাম- পূর্ব খড়িবাড়ী, ভিজিডি কার্ড নং-২৮ অভিযোগ করে বলেন, আমার নামে সরকার ভিজিডি কার্ড দিছে কেন আমি চাল পাইলাম না। আমি ৬ মাসের চাল চাই কার্ড ফেরত চাই এবং এর বিচার চাই কেন আমাদের সাথে এমন করা হলো।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক, নীলফামারী হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী গণ্যমাধ্যম কর্মীদের বলেন, বিষয়টি তদন্তের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার জয়শ্রী রানী রায় বলেন, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে সরজমিনে তদন্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আনিছুর রহমান বলেন, আমাকে জেলা প্রশাসন থেকে অভিযোগটি দেওয়া হয়েছে। আমি উপজেলা কর্মকর্তাকে দ্রæত তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দেওয়া জন্য বলেছি। উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা পূরবী রানী রায় করোনা কালে লক ডাউনে উপজেলা কার্যলয়ে না থাকায় মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ফোন বন্ধ থাকায় মন্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান ময়নুল হক বলেন, ভিজিডি কার্ডে কোন অনিয়ম হয়নি। দু’এক টি নামের জটিলতা থাকলেও সুবিধাভোগীদের বঞ্চিত করা হয়নি। কেউ কেউ পরপর দুইবার সুবিধা পাওয়ায় তাদের বাদ দিয়ে সুবিধা বঞ্চিতদের নাম দেওয়া হয়েছে। সেই তালিকাও আমার কাছে আছে।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *