ডিমলায় প্রধান শিক্ষকের দৌরাত্বে নিয়োগকৃত শিক্ষকের তথ্যে অতিরিক্ত শিক্ষকের ভূল তথ্য প্রেরণে এলাকায় সমালোচনার ঝড় - Simanto Times
Latest:
simantotimes24

Today: 25 Sep 2021 - 04:13:30 pm

ডিমলায় প্রধান শিক্ষকের দৌরাত্বে নিয়োগকৃত শিক্ষকের তথ্যে অতিরিক্ত শিক্ষকের ভূল তথ্য প্রেরণে এলাকায় সমালোচনার ঝড়

Published on Wednesday, June 16, 2021 at 1:34 pm 323 Views

ডিমলায় প্রধান শিক্ষকের দৌরাত্বে নিয়োগকৃত শিক্ষকের তথ্যে অতিরিক্ত শিক্ষকের ভূল তথ্য প্রেরণে এলাকায় সমালোচনার ঝড়

ডিমলায় প্রধান শিক্ষকের দৌরাত্বে নিয়োগকৃত শিক্ষকের তথ্যে অতিরিক্ত শিক্ষকের ভূল তথ্য প্রেরণে এলাকায় সমালোচনার ঝড়

হামিদা আক্তার, স্টাফ রিপার্টার : নীলফামারীর ডিমলায় বালাপাড়া নিউ মডেল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী শিক্ষক রোস্তম আলীর প্রকৃত তথ্য গোপন করে ভুল তথ্য প্রেরণ করায় উক্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছে ভুক্ত ভোগী শিক্ষক রোস্তম আলী। এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষকের দৌরাত্বে এলাকায় আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠেছে। স্বীকৃতি প্রাপ্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এমপিওভুক্ত নিম্ন মাধ্যমিক স্তরে নন এমপিও শিক্ষকদের তথ্যাদি উপজেলা ও জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা রংপুর অঞ্চল, রংপুর এবং মহা-পরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে উক্ত সহকারী শিক্ষকের সঠিক তথ্য গোপন করে ভূল তথ্যাদি প্রেরণ করায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে সহকারী শিক্ষক রোস্তম আলী। শিক্ষা অধিদপ্তরের বিভিন্ন দপ্তরে প্রেরণকৃত অভিযোগে জানা যায়, বিদ্যালয়ের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে দরখান্ত আহবান করা হলে লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে সকল প্রক্রিয়া শেষে বৈধভাবে সমাজ বিজ্ঞান বিভাগে সহকারী শিক্ষক হিসাবে যোগদান করেন রোস্তম আলী।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিগত ৪ মে/১৫ ইং তারিখে নিয়োগ পত্র প্রদান করিলে ০৭ মে/১৫ ইং তারিখে যোগদান পত্রের মাধ্যমে নিয়োগ প্রাপ্ত হন রোস্তম আলী। এরপর থেকেই উক্ত সহকারী শিক্ষক রোস্তম আলী নিষ্ঠার সাথে নিয়োমিত হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেই দায়িত্ব পালন করে আসছেন বিদ্যালয়ে। কিন্তু বিগত ২৩ অক্টোবর/১৯ ইং তারিখে বিদ্যালয়টি এমপিও ভুক্ত হওয়ার পর থেকেই প্রধান শিক্ষক নিজস্বার্থ চরিতার্থে অবৈধ ভাবে একজন অতিরিক্ত শিক্ষক নিয়োগ প্রদান করে বৈধভাবে নিয়োগ প্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক রোস্তম আলীর সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের স্থলে অতিরিক্ত শিক্ষক বিকাশ চন্দ্র রায়কে সমাজ বিজ্ঞান বিষয় দেখিয়ে তথ্য প্রেরণ করেন। এ ঘটনা জানতে পেরে পিতৃহারা এই শিক্ষক রোস্তম আলী বিষপানে আত্বহত্যার চেষ্টায় বিষপান করেন। স্থানীয়রা উক্ত শিক্ষককে বিষপান অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। পরবর্তীতে প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম রোস্তম আলীকে বুঝিয়ে এবং তার সমাজ বিজ্ঞান বিভাগে রেখে তথ্য প্রেরণ করা হবে মর্মে প্রতিশ্রæতি দিয়ে শিক্ষক রোস্তম আলীকে বাড়ীতে ফিরিয়ে আনেন। কিন্তু তারপরও প্রধান শিক্ষক সহকারী শিক্ষক রোস্তম আলীর জায়গায় ভুল তথ্য দিয়ে ইংরেজী শিক্ষক হিসাবে তথ্য প্রেরণ করেন। সম্প্রতি এ প্রতিবেদককে সহকারী শিক্ষক রোস্তম আলী জানান, আমি প্রধান শিক্ষকের ভুল তথ্য প্রেরণের বিষয়টি জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসারসহ বিভিন্ন দপ্তরে অবহিত করেছি। কিন্তু এখনও কোন সুবিচার পাইনি। তিনি আরো বলেন, এবার যদি প্রধান শিক্ষক আমার জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলে তাহলে আবারও আত্বহত্যার পদ বেঁচে নেওয়া ছাড়া আর কোন উপায় আমার থাকবে না। রোস্তম আলী জানায়, এরই মধ্যে আমি প্রায় সাড়ে ৭ লাখ টাকা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের জন্য প্রধান শিক্ষকের হাতে তুলে দিয়েছি। তিনি বলেন খুব শিঘ্রই আমি আইনী প্রক্রিয়া বিচার চাইবো কেন আমার স্থলে অন্য শিক্ষকের তথ্য প্রেরন করছে প্রধান শিক্ষক।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, বিগত ৭ মে/২১ তারিখে সহকারী শিক্ষক রোস্তাম আলী (সমাজ বিজ্ঞান) অদ্যবধি স্বীয় দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করে আসছে। অথচ উক্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিয়োগ রেজুলেশন পরিবর্তন করে সমাজ বিজ্ঞান পদে দু’জনের নাম অর্ন্তভূক্ত করে বিগত ২৫ ফেব্রæয়ারী/২১ তারিখে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পরবর্তী এমপিও করনের নিমিত্তে সামাজিক বিজ্ঞান ও ইংরেজী বিষয়ে শিক্ষক তথ্য চাওয়া হলে জৈষ্ঠ্যেতার ভিক্তিতে উক্ত পদে রোস্তম আলীর নাম অন্তভূক্ত না করে শিক্ষক প্যাটান বর্হিভূত ভাবে অতিরিক্ত সহকারী শিক্ষক বিকাশ চন্দ্র রায়ের নাম অর্ন্তভূক্ত করে ভূল তথ্য উপস্থাপন করে শিক্ষদের তথ্য প্রদান করেন।
বালাপাড়া নিউ মডেল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি এমপিও ভুক্ত হলে বিগত ২৫ ফ্রেব্রæয়ারী/২১ তারিখে উপ-পরিচালক, মাউশি, রংপুর বিভাগ, রংপুর পত্র নং-৩৭.০২.৮৫০০.০০০.০৮.০০৪.২১.৪৪৫/(১০) মাধ্যমে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এমপিওভূক্ত নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত বাংলা/ইংরেজী/ সমাজ বিজ্ঞান বিষয়ে শিক্ষকদের তথ্যাদি চাওয়া হলে প্রধান শিক্ষক এ ভুল তথ্য প্রেরণ করা শুরু করেন। বিগত ০৩/সেপ্টেম্বর/০৮ইং তারিখে মাউশি অধিদপ্তরের স্মারক নংওএম/৬৬-ম/০৮/১৯০১ এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক/কর্মচারী নিয়োগে মহা-পরিচালক এর প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ বোর্ডের দায়িত্ব পালন করেন তৎকালীন সময়ে ডিমলা আরবিআর সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবু জাফর মোঃ মোতাসিম বিল্লাহ । লিখিত নিয়োগ পরীক্ষায় সহকারী শিক্ষক রোস্তম আলী সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়ায় চুরান্ত ভাবে নিয়োগ প্রাপ্ত হয়। শিক্ষা অধিদপ্তরের মহা-পরিচালকের প্রতিনিধি তৎকালীন ডিমলা আরবিআর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) আবু জাফর মোঃ মোতাসিম বিল্লাহ নিয়োগ বোর্ডে বিগত ২৭ এপ্রিল/১৫ নিয়োগ প্রাপ্ত হলে রোস্তাম আলী উক্ত প্রতিষ্ঠানে বিগত ৭ মে/১৫ ইং তারিখে যোগদান করেন। এরপর প্রধান শিক্ষক মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে উক্ত শিক্ষকের এমপিওভুক্তির জন্য বিগত ২৩ মে/২০ ইং তারিখে পত্র প্রেরণ করেন। তাছাড়াও বিগত ২ মে/২০ তারিখে প্রধান শিক্ষক কর্তৃক প্রেরিত শিক্ষক কর্মচারীর তথ্য বিবরণী (প্যাটানভিক্তিক) পত্র অনুযায়ী দেখা যায়, বালাপাড়া নিউ মডেল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়-৬৭২৯(এমপিও ভুক্তির পর্যায় নিম্ন মাধ্যমিক)। অনুমোদিত শিক্ষক কর্মচারী-১৭, শিক্ষক/শিক্ষিকা-১২, তয় শ্রেণীর কর্মচারী-০১ এবং ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী-০৪ জন।
প্রেরিত বিবরণীতে সহকারী শিক্ষক সমাজ বিজ্ঞান রোস্তম আলী জৈষ্ঠ্যতার ভিক্তিতে প্রধান শিক্ষকের পরের সিরিয়ালে রয়েছেন। অপরদিকে প্যাটানে সহকারী শিক্ষক বিকাশ চন্দ্র রায় সমাজ বিজ্ঞান অতিরিক্ত শিক্ষক হিসেবে রয়েছেন। অথচ নিজস্বার্থ চরিতার্থে প্রধান শিক্ষক মোঃ রফিকুল ইসলাম ভূল তথ্য দিয়ে উক্ত বিদ্যালয়ের নন এমপিও শিক্ষকদের তথ্যাদি প্রেরণ করেন। বিগত ২৮ ফ্রেব্রæয়ারী/২১ তারিখে সহকারী শিক্ষক রোস্তম আলী সমাজ বিজ্ঞানে নিয়োগ প্রাপ্তকে ইংরেজি আর অতিরিক্ত শিক্ষক বিকাশ চন্দ্র রায়কে সমাজ বিজ্ঞান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ ও যোগদান একই তারিখে দেখিয়ে তথ্য প্রেরণ করেন। অথচ ঐ নিয়োগের সময় বিকাশ চন্দ্র কোন প্রার্থীই ছিলেন না। প্রধান শিক্ষক নিজস্বার্থ চরিতার্থেই বিকাশ চন্দ্রকে রোস্তম আলীর স্থলে তথ্য প্রেরণ করেন। এ ব্যাপারে উক্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয় কোন ব্যাপার না। কি বিষয় হয় হোক তাকে আমি নিয়োগ দিছি বিল ও করে দিবো। ধর্য্য তো ধরতেই হবে। এত তারাতারি চাইলেও তো পাওয়া যাবে না। রোস্তম আলীর বিল করার দায়িত্ব আমার আমি করে দিবো। প্রসঙ্গত: বে-সরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবলকাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮ ও ২১ এর
অনুচ্ছেদ-১৩ : জ্যেষ্ঠতা ও অভিজ্ঞতা নির্ধারণ : শিক্ষক কর্মচারীদের পারস্পারিক জ্যেষ্ঠতা ও অভিজ্ঞতা তাদের সংশ্লিষ্ট পদে প্রথম এমপিওভুক্তির তারিখ থেকে গণনা করা হয়। এমডিওভুক্তি একই তারিখে হলে জ্যেষ্ঠতা নিধারণের ক্ষেত্রে ঐ প্রতিষ্ঠানের যোগদানের তারিখে বিবেচনা করা হবে। তবে কোনো শিক্ষকের নিয়োগ নিয়মিতকরণ করা হলে নিয়োমিতকরনের তারিখ যোগদানের হিসাবে গণ্য হবে। যোগদানের তারিখ একই হলে জন্ম তারিখের ভিক্তিতে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ হবে। জন্ম তারিখ একই হলে একাডেমিক পরীক্ষার ফলাফলে ভিক্তিতে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ করা হবে।
অনুচ্ছেদ ১৭.৯ : অসত্য তথ্য প্রদান, তথ্য গোপন করা ভূয়া বা জাল কাগজপত্র দাখিল ,প্রাপ্যতা না থাকা সত্বেও আবেদন প্রেরণ করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রধান/ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি/গর্ভনিং বডির চেয়ারম্যান দায়ী থাকবেন। এবং তাদের বিরুদ্ধে যথোপযুক্ত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এ ক্ষেত্রে এ ধরনের অনিয়ম মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের কিংবা তার আওতাধীন অফিসের কোনো কর্মকর্তা/কর্মচারীর সম্পৃক্ততা প্রমাণ পেলে/দায়ী থাকলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অনুচ্ছেদ ১৮ (গ) : মিথ্যা তথ্য প্রমান, অবৈধ শিক্ষক নিয়োগ, ভূঁয়া শাখা/মিথ্যা শিক্ষার্থী প্রদর্শন, পাবলিক পরীক্ষায় অসুদপায় অবলম্বন এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়/ অধিদপ্তর/ বোর্ডের “আপিল অ্যান্ড আরবিউট্রেশন” এর সিন্ধান্ত প্রতিপালন না করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক এবং প্রতিষ্ঠান প্রধানের বেতন-ভাতাদি স্থগিত/ বাতিল কর হবে।
(ঙ) : এমপিও ভুক্তির জন্য ভূয়া/জাল শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ/নিবন্ধন সনদ প্রমান, নিয়োগ সংক্রান্ত ভূয়া/জাল রেকর্ড প্রমান এবং প্যাটার্ন বর্হিভূত পদে এমপিও ভূক্তির জন্য আবেদন প্রেরণ করলে প্রতিষ্ঠান প্রধান এং সংশ্লিষ্ট শিক্ষক/কর্মচারীর বেতন-ভাতাদি স্থগিদ/বাতিল করা হবে। এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি পদ শুন্য ঘোষনাসহ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উপরোক্ত নীতিমালার তোয়াক্কা না করেই নিয়ম নীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুঁলী দেখিয়ে উক্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ রফিকুল ইসলাম নিয়োগ বানিজ্যে মেতে উঠেছেন বলেও বিস্তর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *