নীরবে নিভৃতে কাঁদছে যাদের মন। - Simanto Times
Latest:

Today: 13 Apr 2021 - 04:39:43 am

নীরবে নিভৃতে কাঁদছে যাদের মন।

Published on Saturday, April 3, 2021 at 5:13 pm 36 Views
।। ওসমান গনি।।
 তলাবিহীন ঝুড়ি  থেকে হাটি হাটি পা পা করে বাংলাদেশ আজ বিশ্ব দরবারে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। যা সত্যিই একটি প্রশংসনীয় ব্যাপার।  এই উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় স্থান পাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশী প্রশংসার দাবীদার দেশের জনগন ও দেশের রাষ্ট্র প্রধান। দেশের ১৬ কোটি জনগনের ৩২ কোটি হাতের কর্ম সম্পাদনার মাধ্যমে ও দেশের সফল রাষ্ট্র পরিচালকের সমন্বয়ের মাধ্যমে আজ সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ আজ বিশ্বের কাছে রোল মডেল হয়ে উঠছে। অনেক দেশ এখন বাংলাদেশ কে ফলো করে সামনের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করছে। কিভাবে শূন্য অবস্থান থেকে বাংলাদেশ আজকে উন্নয়নশীল দেশে পরিনত হলো? বাংলাদেশ আজ বিশ্বের ৫৮তম উন্নয়নশীল দেশের তালিকায়। বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল দেশ হওয়াতে দেশের মানুষ আনন্দে উল্লাসে উদ্ভাসিত। ধন্যবাদ দেশের সফল রাষ্ট্রনায়ক ও কর্মোদ্যোগী জনগন কে।
বাংলাদেশসহ  বিশ্বের অনেক দেশ কে উন্নয়নশীল  হিসাবে গণ্য করা হয় সাধারণত দেশের মোট জনগোষ্ঠীর মাথা পিছু আয়ের ওপর ভিত্তি  করে।  বিশ্বের প্রতিটি দেশে তিন শ্রেণির মানুষ বসবাস করে থাকে। উচ্চবিত্ত,  মধ্যবিধ ও নিন্মবিত্ত। এই তিন শ্রেণির মানুষের উপার্জনের অর্থের গড় পরিমানের হিসাবে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ। এখন কথা হলো তিন শ্রেণির মানুষের মধ্যে উচ্চবিত্ত  লোকদের অর্থনৈতিক অবস্থা স্বচ্ছল। আর নিন্মবিত্ত লোকদের অর্থনৈতিক অবস্থা অস্বচ্ছল। দেশে কে উন্নয়নশীল ঘোষণা  করতে গিয়ে তিনের গড় আয়ের সমতার ভিত্তিতে হিসাব করা হয়েছে। আসলে উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও নিন্মবিত্ত মানুষের সম্পদ তাদের নিজ নিজ। এ সম্পদ কারোটা কারও কাজে আসবে না বা নিজ নিজ সম্পদ হতে কেউ কাউকে দিবে না। যার জন্য দেশের উচ্চবিত্ত লোকেরা তাদের সম্পদ কে অর্থাৎ অর্থকে গতিশীল করে হুহু করে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তাদের পিছনে রয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাপোর্ট।  তাদের আর পিছনে ফিরে তাকানোর সময় নাই। তাদের রয়েছে প্রচুর পরিমান অর্থবিত্ত, রাজনৈতিক শক্তি,পেশীশক্তিসহ আরও অন্যান্য আনুষঙ্গিক।  আর নিন্মবিত্ত শ্রেণীর লোকজন তারাও কারো দিকে ফিরে তাকানোর সময়ক্ষেপণ না করে কর্ম করে কচ্ছপ গতিতে সামনে বাড়ছে। কায়ক্লেশে কেটে যাচ্ছে তাদের দিন। তারা মানসম্মানের দিকে না তাকিয়ে সমাজের যেকোন কাজ করতে পারছে। এটা তাদের দ্বারা সম্ভব।  আর মধ্যবিত্ত শ্রেণীর লোকজন সমাজে, দেশে অচেতন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। তাদের তেমন কোন উচ্চ শিক্ষা, চাকরি,অর্থ বা কর্ম নেই। এই শ্রেণীর লোকজন জীবনযাত্রার মানটা কোন রকমে চলছে। তারা সমাজে বা দেশে নিজের মান সম্মানের কারনে কোন কাজও করতে পারছে না। রাষ্ট্র ও তাদের কোন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারছে না। তারা লোকলজ্জার ভয়ে কারও কাছে হাত পাত্তেও পারছে না। রাষ্ট্র ও তাদের জন্য আলাদা কিছু করে দিচ্ছে না। তাই দেশে যখন কোন দুর্যোগ বা মহামারি দেখা দেয় তখন তাদের উপর নেমে আসে অমানিশার ঘোর অন্ধকার।  তখন তারা সন্তান ও স্ত্রী সামনে লজ্জায় মাথা নিচু করে বিভিন্ন অশ্লীল কথাবার্তা শোনতে হয়। এ অবস্থায় তারা নিরবে নিবৃত্তে কাদা ছাড়া আর কোন উপায় নেই। তাদের সাথে রয়েছে সমাজের নিন্মশ্রেনির একটা অংশ। তাদের একই অবস্থা। আরও রয়েছে বৃদ্ধা, বিভিন্ন বয়সের অকর্মণ্য লোক।  যারা বিভিন্ন  রকম রোগে আক্রান্ত। তাদের পেটপীঠ রয়েছে। তারা খায় কি, পড়ে কি?  কেউ কি কোনদিন খবর নিয়েছে? নেয় না। সরকারীভাবে বয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা সহ আরও অন্যান্য ভাতা রয়েছে। দেশের কতজন লোক সরকারের এই সুবিধা পায়?  সরকারী বিভিন্ন সুযোগ পেতে গেলেও রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় না থাকলে পাওয়া যায় না। আবার পেতে গেলে ও মেম্বার, চেয়ারম্যান ও দলের নেতাকর্মীদের বিভিন্ন ভাবে হাসিখুশী রাখতে হয়। তা না হলে আপনি যতবড় বয়স্ক বা প্রতিবন্ধী হন না কেন ভাতার কার্ড পাবেন না। আপনি বাচেন কি মরেন সেটা দেখার কেউ নেই।  সরকারী সুবিধা গ্রহণকারী লোকের সংখ্যা খুবই নগণ্য। তারাও না খেয়ে না পড়ে নিরবে বোবা কান্না করছে। তাদের কান্না কেউ দেখে না, দেখলেও কেউ খবর নেই। সরকারের কোন সুযোগসুবিধা তাদের কপালে জোটে না। তাদের নেই কোন মামু খালু, রাজনৈতিক পেশীশক্তি। এই শ্রেণির লোকজন সবসময় অবহেলিত থেকেই গেল। ডিজিটাল দেশ, উন্নয়নশীল দেশ হয়েও যদি দেশের মানুষের এমন অবস্থা হয়, তাহলে এই অসহায় লোকগুলো কি করবে। গেল ২০২০ সাল করোনার মহামারির সময়ে সরকারীভাবে যে সাহায্য সহযোগীতা দেশের জনগন কে দেয়া হলো সে সাহায্য সহযোগীতা কতজন কাংঙ্খিত লোকজন পেয়েছে?  আমরা বিভিন্ন সাংবাদ মাধ্যমে দেখলাম সাহায্য সহযোগীতার বেশীরভাগ অংশই নিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাও কর্মীরা। দেশের গরীব মানুষ কিছুই পায়নি। গরীব লোকেরা পেয়েছে স্থানীয় ব্যক্তিদের দেয়া সাহায্য সহযোগীতা।
Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *