ডোমারে ৬ কোটি টাকা প্রতারণার ঘটনায় প্রতারকদের বিরুদ্ধে অবশেষে থানায় মামলা - Simanto Times
Latest:

Today: 13 Apr 2021 - 03:38:19 am

ডোমারে ৬ কোটি টাকা প্রতারণার ঘটনায় প্রতারকদের বিরুদ্ধে অবশেষে থানায় মামলা

Published on Sunday, January 24, 2021 at 2:16 pm 486 Views

ডোমারে ৬ কোটি টাকা প্রতারণার ঘটনায় প্রতারকদের বিরুদ্ধে অবশেষে থানায় মামলা

আল আমিন,বিশেষ প্রতিনিধি : নীলফামারীর ডোমারে বহুল আলোচিত ৬ কোটি টাকা প্রতারণার ঘটনায় প্রতারিত ২৬৭ জন ভুক্তভোগী নারী সর্বস্বান্ত হয়েছেন। প্রতারিত নারীদের পক্ষে ভোক্তভোগী নারী প্রতারণার ঘটনায় প্রতারিত হয়ে অবশেষে ঘটনার ১ মাস ১২ দিন পর ডোমার থানায় প্রতারকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। উক্ত ঘটনায় ৬ শতাধিক প্রতারিত নারী প্রলুব্ধ হয়ে ৬ কোটি টাকা উদ্ধারের আশায় দীর্ঘদিন ধরে টাকা সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরেও না পেয়ে অবশেষে ডোমার থানায় মামলা দায়ের করছে বলে ভুক্ততোগী প্রতারতি নারী মোছাঃ শিরিনা বেগম জানিয়েছে। ডোমার থানার অফিসার ইনচার্জ মোস্তাফিজার রহমান মামলার বাদীর এজাহার প্রাপ্ত হয়ে থানায় প্রতারকদের বিরুদ্ধে ৪২০ও ৪০৬ ধারায় রুজ্জু করেন। যার নং-০৪ তাং ২৪ জানুয়ারী/২১। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, (১) মামুন হাসান মালিক ওরফে আদম সুফি (৪৫) পিতা: মৃত মজিবর রহমান সাং- মধ্য চিকনমাটি, থানা: ডোমার (২) মাহামুদুল হাসান মামুন ওরফে মামুন রহমান (২৮), পিতা: আবুল কাশেম কালু, সাং- দক্ষিন তিতপাড়া, উপজেলা: ডিমলা, জেলা: নীলফামারী। (৩) নুর আলম ওরফে ফজলুল কাজি কাদের সাকিল, পিতা: মৃত জিল্লুর রহমান (জিকু), সাং- কাহালু গুনিয়াপাড়া, উপজেলা: কাহালু, জেলা: বগুড়া। (৪) মো: মাহাবুল আলম পিতা: ওহিদুল ইসলাম সাং- বুঝুরক্ষর হাট পাজোপাড়া উপজেলা: বাঘমারা, জেলা রাজশাহী। এজাহার ভুক্ত বিবাদীরা সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র দল। তারা প্রতারণা করার উদ্দেশ্যে গেল বছর নভেম্বর এর প্রথম সপ্তাহে ডোমার সাহাপাড়াস্থ ছানু সরকার এর প্রার্ক্তন কুইন্স কিন্ডারগার্ডেন নামক স্কুল ঘর ভাড়া লইয়া ডোমার বাজার ভোগ্যপন্য সমবায় সমিতি নামীয় ব্যানার লাগিয়ে এলাকার সহজ সরল নারীদের লোভনীয় বিভিন্ন পন্য সামগ্রী যেমন, মোটর সাইকেল, কার, ফ্রিজ, এল এইডি টিভি, স্মাট ফোন, গ্যাস চুলা, রাইস কুকার, সেলাইমেশিন, ডিনার সেট, সহ বিভিন্ন ভোগ্যপন্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সমুহ সমিতির ম্যাধ্যমে সদস্যগন যে মুল্য দিয়ে ক্রয় করিতে রাজি থাকিবে তাহাকে মুল্য বাবদ সেই পন্যটি দেয়া হইবে এবং ৭ দিনের মধ্যে মূল টাকা সহ ১০-৩০% লাভাংশ সহ ফেরত দেওয়া হবে মর্মে ১৮-৪০ বছরের নারীদেরকে উদ্বুদ্ধ ও প্রলুদ্ধ করিতে থাকে। এবং সমিতি তৈরী করিয়া সদস্যদের নিকট হতে প্রথম পর্যায়ে তারা তাদের প্রতিশ্রুতি মত মটর সাইকেল, ফ্রিজ, সেলাই মেশিন সহ অন্যান্য পন্য ফ্রি পন্য বুঝিয়ে দেন এবং মূল টাকা ফেরৎ দিয়ে চমক সৃষ্টি করে। তাদের উক্ত লোভনীয় অফারের দৃষ্টান্ত দেখাইয়া অনেক শিক্ষিত নারীদেরকে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা বেতন ভাতা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়া দল তৈরী করে উক্ত লোভনীয় অফার প্রচার করিতে থাকে এবং সুকৌশলে নারীদের নিকট হতে লক্ষ লক্ষ টাকা করে নিতে থাকে। গত ০১ ডিসেম্বর/২০ ডোমার সমবায় অফিস এর নিকট থেকে ডোমার বাজার ভোগ্যপন্য সমবায় সমিতি লিঃ এর রেজিঃ নং ২৪ লইয়া প্রতারক চক্রটি প্রচার করিতে থাকে সরকারীভাবে রেজিষ্ট্রেশন হয়েছে। কর্মী ও এলাকার নারীদের মধ্যে ব্যাপক প্রচার করার ফলে এলাকার নারীগন প্রচারে আকর্ষিত হইয়া প্রায় ৬ শত নারীর অধিক তাদের সদস্য তালিকা ভুক্ত হয়ে বিনিয়োগ করেন। এলাকার নারীগণ স্বল্প সময়ে অধিক লাভের আশায় এবং স্বল্প সময়ে মূল টাকা ফেরৎ পাওয়ার প্রতিশ্রুতিতে সরল বিশ্বাসে কেহ গহনা বিক্রি করে, কেহ গরু ছাগল বিক্রি করে আবার কেহ ঋণ ও বিবাহের জন্য জমানো অর্থ আসামীগনকে প্রদান করেন এবং রশিদ গ্রহন করেন। প্রত্যেকটি রিসিপে টাকার অংক লিখেছেন কিন্তু পন্য গ্রহীতার নাম ও টাকা গ্রহনকারী হিসাবে নিজেরা স্বাক্ষর করেননি। শুধুমাত্র একটি পেইড সিল প্রদান করেন। এভাবে প্রলুব্ধ ও প্রতারনা করে প্রায় ৬শত নারীর নিকট হতে গত ১০ ডিসেম্বর/২০ ইং পর্যন্ত প্রায় ৬ কোটি টাকার অধিক হাতিয়ে নেন। মামলায় বলা হয়, মোছাঃ মারুফা বেগম, স্বামী- আজিজুল ইসলাম, সাং- প্রশিকাপাড়া, ৩ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা, হাসিনা আক্তার, স্বামী- শরিফুল ইসলাম, সাং- বসত পাড়া, ৫ লক্ষ ৪৩ হাজার ৪ শত টাকা, মোছাঃ রেবেকা শাহীন সুলতানা, স্বামী- মোঃ রবিউল ইসলাম, সাং- ছোট রাউতা, ১ লক্ষ ১১হাজার ২শত টাকা, মোমিনা বেগম, স্বামী- বুলু ইসলাম, সাং- প্রশিকা পাড়া, ১ লক্ষ ১৪ হাজার টাকা, উম্মে হাবিবা, স্বামী- আলম, সাং- কাজীপাড়া, ৬১ হাজার টাকা, লাকী বেগম, স্বামী- আব্দুল কুদ্দুছ, সাং- পাঠান পাড়া, ১ লক্ষ ৫৩ হাজার টাকা, আনজুয়ারা বেগম, স্বামী- আনাকুল ইসলাম, সাং- ছোট রাউতা, ৪৮ হাজার ২ শত টাকা, সাধনা আক্তার মিলি, পিতা- মৃত- মোজাম্মেল হক, শাহীপাড়া, ৭০ হাজার ১ শত টাকা, লাবনী আক্তার, স্বামী- মেরাজুল ইসলাম, সাং- বসতপাড়া, ৩ লক্ষ ৩৯ হাজার ২ শত টাকা, ডলি রানী রায়, স্বামী- রবি চন্দ্র রায়, সাং- কলেজ পাড়া, ১ লক্ষ ১৬ হাজার টাকা, রাফিয়া সুলতানা, পিতা- কতুব উদ্দিন, সাং- ছোট রাউতা গোডাউন পাড়া, ১ লক্ষ ২১ হাজার টাকাসহ অন্যান্য নারীদের কাছে ৩৩ লক্ষ ৪২ হাজার ৬’শ ৩০ টাকা গ্রহণ করার পর প্রতারকরা টাকার বিপরীতে তাদের প্রতিশ্রুতি মতে পন্য দেওয়া বন্ধ করে লম্বা সময় দিয়া কাল ক্ষেপন করিতে থাকিলে প্রলুদ্ধ নারীরা তাদের মতলব বুঝিতে পেরে গত ১ডিসেম্বর/২০ সমবায় সমিতি কার্যালয়ে গিয়ে তাদের টাকা ফেরৎ চায়। প্রতারক চক্র দলটি তাৎক্ষনিকভাবে টাকা দিতে অস্বীকার করেন এবং সুযোগ বুঝে কৌশলে অফিস বন্ধ করিয়া পালিয়ে যান। ৬ শতাধিত নারীর মধ্যে প্রতারিত শুধুমাত্র ২৬৭ জন নারীর কাছ থেকেই সংগ্রহ করেন ১ কোটি ৪১ লক্ষ ০৬ হাজার ৬’শ ৩০ টাকা। প্রতারিত নারীগন তাদের সহায়-সম্বল হারিয়ে দিশেহারা হয়ে উক্ত বিষয় নিয়ে উপজেলা ও জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরে স্বারকলিপি দিলে জেলা প্রশাসক মহোদয় প্রশাসনের মাধ্যমে আসামীদের নিকট টাকা উদ্ধারের চেষ্টা করেন। দিশেহারা নারীগন বিভিন্ন সংবাদ সম্মেলন করেন যাহা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় এই ধরণের সমিতি গঠন করিয়া প্রতারণা করিয়া আসিতেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে একাধীক মামলা রয়েছে বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *