ডোমারে মুচলেকার কোটি টাকার চেক ডিসঅনার করছে না সমবায় কর্মকর্তা : টাকা উদ্ধারের আশ্বাস এমপি’র - Simanto Times
Latest:
simantotimes24

Today: 26 Sep 2021 - 04:22:29 am

ডোমারে মুচলেকার কোটি টাকার চেক ডিসঅনার করছে না সমবায় কর্মকর্তা : টাকা উদ্ধারের আশ্বাস এমপি’র

Published on Wednesday, January 13, 2021 at 5:56 am 495 Views

স্টাফ রিপোর্টার : নীলফামারীর ডোমারের ৬ শাতধিক নারীকে সম্পৃক্ত করে ৬ কোটি টাকার অধিক প্রতারণার ঘটনায় প্রতারক চক্রের দুই সদস্য ডিমলার মাহমুদুল হাসান মামুন ও ডোমারের মামুন হাচান মালিক @ আদম সুফী গেল বছর ১২ই ডিসেম্বর থানায় বসে ডোমার উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা নুরুজ্জামান খাঁন এর বরাবরে নগদ ৬ লাখ টাকাসহ ডিমলার মামুন ও তার স্ত্রী হোমায়রা আরজু তনু’র যৌথ একাউন্টে ৫০ লাখ টাকা ও আদম সূফী ৫০ লাখ টাকার চেক প্রদান করেন। তারা ৭-১৫ দিনের মধ্যে টাকা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ডোমার থানা থেকে ছাড়া পান। কিন্তু ঘটনার এক মাস পেরিয়ে গেলেও তারা টাকা পরিশোধ না করে বরং টাকা না দেওয়ার জন্য বিভিন্ন তালবাহানা করে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। টাকা ফেরতের নির্ধারিত সময় সীমা শেষ হলেও সমবায় কর্মকর্তা চেক ডিসঅনার মামলা করছেন না অজানা কারনে বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ।
এদিকে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা এখন নিরব দর্শকের ভূমিকায় রয়েছে বলে ভুক্তভোগী নারীরা অভিযোগের সুরে জানিয়েছে। এ বিষয়ে ডোমার উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা নুরুজ্জামান খাঁন মুঠোফোনে জানান, তাদের চেক উপজেলা প্রশাসনের উপস্থিতিতে নেওয়া হয়েছে। ঐ চেকে টাকা পয়সা একদম নাই। আমরা চেক ডিসঅনার মামলা করবো। তার মধ্যে ডিমলার মামুন যে চেক প্রদান করেছে সেটি তার স্ত্রীসহ যৌথ একাউন্টের। কিন্তু ঐ একাউন্টে মাত্র ১৯’শ টাকা রয়েছে। এক কোটি টাকার চেক ও নগদ ৬ লাখ টাকা পাওয়া গেছে স্বীকার করে তিনি আরো জানান, চেক ও টাকা উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে থানায় জমা রাখা হয়েছে। অপরদিকে ডোমার থানার অফিসার ইনচার্জ মোস্তাফিজার রহমান জানান, সমবায় কর্মকর্তার নামে চেক নেওয়া হয়েছে সব তাদের কাছেই রয়েছে। চেক ও টাকা নেওয়ার সময় থানায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোনোয়ার হোসেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা সমবায় কর্মকর্তাসহ শতশত ভুক্তভোগী নারীরা। ৬ কোটি টাকার ঘটনাকে কেন্দ্র করে টাকা উদ্ধারে ভুক্তভোগী নারীরা ইতিমধ্যেই নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি, নীলফামারী জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোন প্রতিকার পাচ্ছন না বলে ভুক্তভোগী নারীরা জানিয়েছেন। এখন প্রতারক চক্র দলের সদস্যরা গাঁ ঢাকা দিয়ে ঘাপটি মেরে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এদিকে ভুক্তভোগী নারীরা প্রতিদিন উপজেলা প্রশাসন ও সমবায় কর্মকর্তার দপ্তরে ধর্ণা দিয়ে ঘুরে ফিরছেন। প্রতারক চক্রের দুই সদস্য মামুন ও আদম সুফীর লোকজন প্রতিনিয়ত প্রশাসনের কাছে সময় নিচ্ছেন টাকা ফেরত দেওয়ার মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে। তারা এভাবেই সময় ক্ষেপন করছেন বলে ভুক্তভোগী প্রতারিত নারী তানজিলা ও রাফিয়া সুলতানা, লাবনী আক্তার, মারুফা বেগম, হাসিনা আক্তার, উম্মে হাবিবা, মোমিনা বেগম, লাবনী আক্তার, সাধনা আক্তার মিলি ও ডলি রানী রায়সহ শতশত নারীরা জানিয়েছেন। এসময় প্রতারিত নারীরা জানান, আমরা ৬ শতাধিক নারীর মধ্যে মাত্র আঁড়াই শতাধিক নারীর খোঁয়া যাওয়ার টাকা পেইড রশিদ নিয়ে হিসাব করে দেখেছি আড়াই কোটি টাকার অধিক টাকা হয়েছে। সেই অনুযায়ী প্রতারকরা মাত্র ৬ কোটি টাকা নিয়ে পালায়নি। টাকার পরিমাণ আরো অনেক বেশী হবে। এদিকে প্রতারণার ঘটনায় নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) সাংসদ বীরমুক্তিযোদ্ধা আফতাব উদ্দিন সরকার (এমপি) গত ১১ জানুয়ারী ডোমার উপজেলা পরিষদ চত্তরে গিয়ে ভুক্তভোগী নারীদের সাথে কথা বলেন এবং তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেন।  তিনি টাকা উদ্ধারের সর্বাক্তক চেষ্টা করা হবে বলে আশ্বাস প্রদান করে তাদেরকে আশ্বস্ত করেন । এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ডোমার থানার অফিসার ইনচার্জ, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা, শতশত ভূক্তভোগী প্রতারিত নারী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ প্রমূখ। গত ১২ জানুয়ারী সমবায় অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত টিম জেলা সমবায় কর্মকর্তা ও ডিমলা উপজেলা সমবায় কর্মকর্তাসহ তদন্তটিমের সদস্যরা ডোমার সমবায় কার্যালয়ে ভুক্তভোগী নারীদের কাছে ঘটনার বিবরণ শুনেন এবং ঘটনাস্থল সাহাপাড়াস্ত সাবেক কুইন্স ইনটারন্যাশনাল স্কুলটি পরিদর্শন করেন। যেখানে এই প্রতারক চক্রটি সমবায় সমিতির আঁড়ালে কোম্পানী খুলে প্রতারণার এই অভিনব ব্যবসায় প্রতারণার টাকা নিয়ে সটকে পড়েন চক্রটি। এ সময় তদন্তকারী টিম প্রতারিত নারীদের কাছে বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করেন। ডোমার উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা নারীদের মামলা করার পরামর্শ দিলে তারা উক্ত সমবায় কর্মকর্তাকে দায়ী করে বলেন, অল্প দিনের মধ্যে কেন প্রতারক চক্রটিকে ভোগ্যবাজার সমবায় সমিতির নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে ? এ প্রশ্নের জবাবে কোন উত্তর দিতে পারেননি ডোমার উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা। এবং কেন এখনও চেক ডিসআনর মামলা করা হয়নি প্রতারকরদের বিরুদ্ধে সে প্রসঙ্গেও কিছু বলেননি তিনি। ভুক্তভোগী প্রতারিত নারীরা এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, প্রতারকরা শুধু টাকাই প্রতারণা করে নিয়ে যায়নি। তারা ভুক্তভোগী এক নারী নাজমা ও তার শিশু সন্তান নিশাদকেও অপহরণ কর নিয়ে গেছে। অপহরণের ঘটনায় প্রতারক চক্রদলটির বিরুদ্ধে নাজমার স্বামী ও শিশুটির পিতা বাদী হয়ে মামালা করেছেন। তারা আরো জানান, ৬ কোটি টাকার অধিক প্রতারণার ঘটনায় প্রতারকদের বাঁচাতে একটি মহল ধুম্রজাল সৃষ্টি করছেন। তারাই সময় ক্ষেপনের জন্য নানা ফন্দি ফিকির বের করছেন। প্রতারিত নারীরা দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, আমাদের টাকা নিয়ে পালিয়ে গিয়ে এখন বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলকে ম্যানেজ করছে সেই টাকা দিয়েই। আর আমরা যাতে মামলা করতে না পারি সে জন্য অনেককে বিভ্রান্ত করছে বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের দ্বারা। কিন্তু আমরা কিছুতেই ছাড় দিবো না। টাকা উদ্ধার করেই ছাড়বো।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *