ডোমারে কোম্পানী খুলে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া প্রতারক মামুনের বিরুদ্ধে সরকারী চাকুরী নিয়োগে প্রক্সি পরীক্ষাসহ নানা অভিযোগ - Simanto Times
Latest:

Today: 13 Apr 2021 - 03:08:38 am

ডোমারে কোম্পানী খুলে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া প্রতারক মামুনের বিরুদ্ধে সরকারী চাকুরী নিয়োগে প্রক্সি পরীক্ষাসহ নানা অভিযোগ

Published on Tuesday, December 15, 2020 at 4:16 pm 667 Views

এস.এ. ইসলাম,বিশেষ প্রতিনিধি, নীলফামারী : নীলফামারীর ডোমারে সমিতির আড়াঁলে কোম্পানী খুলে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া প্রতারক মামুনের বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা আত্মসাতের নানা অভিযোহ পাওয়া গেছে।
সরকারী চাকুরী নিয়োগে বিভিন্ন চাকুরীর লিখিত পরীক্ষায় প্রক্সির মাধ্যমে পরীক্ষায় অংশগ্রহন করিয়ে পরীক্ষায় টিকিয়ে দেওয়ার নামে ও চাকুরীতে নিয়োগ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে প্রতারণার মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলেও লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে প্রতারক চক্রের হোতা পঞ্চগড় পানি উন্নয়ন বোর্ড এর কার্য সহকারী মাহমুদুল হাসান মামুন এর বিরুদ্ধে। জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এই প্রতারক মামুন চাকুরী প্রত্যাশী যুবককে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ বিভিন্ন দপ্তরে নিয়োগ পরীক্ষায় প্রকৃত চাকুরী প্রার্থীর পরিবর্তে প্রক্সি পরীক্ষার্থীর মাধ্যমে পরীক্ষায় টিকিয়ে দেওয়ার কথা বলে প্রতি প্রার্থীর কাছ থেকে এক থেকে দেড় লাখ টাকা গ্রহন করে। পরীক্ষার ফলাফলের পর কোন প্রার্থী না টিকলে অল্প অল্প করে কিছু টাকা ফেরত দেয়। পরবর্তীতে টিকিয়ে দিবো বলে আশ্বস্ত করে থামিয়ে রাখে তাদের। প্রতারণার শিকার ভুক্তভোগীরা প্রতিকার চেয়ে বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেও প্রতিকার পায়নি তারা। তাহলে প্রতারক মামুনের খুঁটির জোড় কোথায় ? প্রশ্ন ভুক্তভোগীদের। ভুক্তভোগীরা জানিয়েছে প্রতারক মামুনের হাত অনেক লম্বা। আইন শৃখংলা বাহীনির সদস্য ও ক্ষমতাসীন দলের বড় বড় নেতার সাথে তার সখ্যতা রয়েছে বলেও ধারনা করছে ভুক্তভোগীরা।
ঘটনার অনুসন্ধানে জানা যায়, ঢাকায় অবস্থানরত হাসান নামের এক ব্যাক্তির সাথে যোগাযোগ করে এই প্রক্সি পরীক্ষা কার্যক্রম চালান মামুন। নিয়োগ পরীক্ষায় শতশত যুবককে টিকানোর কথা বলে ফাঁদে ফেলতেন এই চক্রটি । তবে যে সব মেধাবীরা নিজেরাই লিখিত পরীক্ষায় দিয়ে টিকে যেতেন তাদেরকে ফলো করে শুরু করেন প্রতারণা। এরকম এক চাকুরী প্রত্যাশী যুবককে ফাঁদে ফেলে সাড়ে ষোল লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারক মামুন। পরবর্তীতে অনেক চেষ্টার পর অল্প অল্প করে সাড়ে তিন লাখ টাকা ফেরত দিলেও এখনও ১৩ লাখ টাকা না দিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে সে। লিখিত পরীক্ষায় টিকেও চাবুরী না হয়ে বরং টাকা হারিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে চাকুরী প্রত্যাশী ওই যুবক ও তার পরিবারটি। খবর পেয়ে চাকুরী প্রত্যাশী যুবক আসাদুজ্জামান রাসুর বাড়ীতে সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, এই প্রতারক মামুনের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিনব কৌশলের গল্প। কথা হয় আসাদুজ্জমানের বাবা-মাসহ আরো অনেকের সাথে। ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে রাসু’র মা চোখের অশ্রু মুছে বলেন দু:খের কথা। তিনি জানান, আমরা জমি বিক্রি ও বন্ধক দিয়ে ছেলের চাকুরীর জন্য মামুনকে টাকা দিছি। কিন্তু প্রতারক মামুন আমাদের সর্বনাশ করেছে। ভুক্তভোগী আসাদুজ্জামান রাসু এ প্রতিবেদক জানায়, আমি নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই গ্রামের মোঃ মোজাহার আলীর পুত্র মোঃ আসাদুজ্জামান রাসু (৩১)। আমি বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো), ঢাকা। পরিচালক, কর্মচারী উন্নয়ন পরিদপ্তর বাপাউবো, ঢাকা কর্তৃক স্মারক নং-৫৮.০৩.০০০০.০০২.১১.১৯-২৩৭০ দৈনিক ইত্তেফাক, ৮ মার্চ’২০১৯ এবং চাকুরী পত্রিকা তাং-১২ মার্চ’২০১৯ইং ইং তারিখে উক্ত পরিদপ্তরে ২৭৮ জন কর্মচারী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলে ২৪ মে’২০১৯ইং তারিখে সকালে লিখিত পরীক্ষায় ডাটা এন্ট্রি অপারেটর (ডিইও) পদে নির্বাচনী লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে উর্ত্তীন্ন হই, রোল নং-৩৫৭৩২ এবং একই তারিখে বিকালে অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মদ্রাক্ষরিক নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে উর্ত্তীন্ন হই। রোল নং-৭৫১৬৯। উল্লেখ্য, আমি ইতিপূর্বেও উক্ত বাপাউবো’র নিয়োগ পরীক্ষায় উর্ত্তীন্ন হলেও আমার চাকুরী হয়নি।
বাপাউবো’র পঞ্চগড় কার্যালয়ের কার্যসহকারী মাহমুদুল হাসান মামুন আমার বন্ধু হওয়ার সুবাদে আমার ও আমার পরিবারের সাথে সু-সম্পর্ক থাকায় যোগাযোগ মামুন বলে বাপাউবো’র বেশ কিছু পরিচালকের সাথে সম্পর্ক রয়েছে তার। তুমি আমাকে টাকা দাও তোমার চাকুরী হয়ে যাবে। ১৮ লাখ টাকা লাগবে তবেই তোমার চাকুরী হয়ে যাবে। আমার বিশ্বাস অর্জনের জন্য আমাকে ঢাকা পাউবো’র প্রধান কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে মোঃ আবুল বসার, সহকারী পরিচালক শৃখংলা পরিদপ্তর এর কাছে আমার যাবতীয় সনদপত্র অনাকে দিয়ে সত্যায়িত করে নেন। এ সময় মামুনের সাথে উক্ত কর্মকর্তার সম্পর্কের কথা জানতে পারি এবং তিনিও তাকে টাকা দিতে বলেন। এ কারনে আমি সরল বিশ্বাসে ও বন্ধু হওয়ার সুবাদে বিশ্বাস করে আমার বাবার আবাদি জমি বিক্রি ও বন্দক দিয়ে মামুনকে ১৬ লাখ ৫০ হাজার দেই। প্রতারণা করে চাকুরীর নিশ্চয়তা প্রদান করায় পর্যায়ক্রমে প্রথমে ৫ লাখ ৫০ হাজার (আমার বাবার মাধ্যমে), আমার ভাইভার পূর্বেই আবারো আমার ভগ্নপতি ও খালাত ভাইসহ তার বাড়িতে গিয়ে ১০ লাখ ৫০ হাজার এবং মৌখিক পরীক্ষায় অংশ গ্রহনের জন্য ঢাকা গমনের প্রাক্কালে আবারো ৫০ হাজার টাকাসহ মোট ১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা মাহমুদুল হাসান মামুনকে বুিঝয়ে দেই। যার স্বাক্ষী ও অডিও বেকর্ড প্রমান হিসেবে রয়েছে। পরবর্তীতে আমার চাকুরী না হওয়ায় বিভিন্ন সময়ে অল্প অল্প করে ৩ লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা আমাকে ফেরত দেয়। বাকী টাকা ফেরত দিচ্ছে না। এ ব্যাপারে বাপাউবো’র উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ কর্মচারী পরিদপ্তর শাখা, ঢাকার সহকারী পরিচালক, গোলাম ফারুক এর মাধ্যমে তদন্ত করা হলে গত ১৬/১০/ ২০২০ ইং তারিখে উক্ত তদন্তকারী কর্মকর্তার সামনে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কালে আমি সমস্ত প্রমাণাদি লিখিত জবানবন্দির মাধ্যমে অভিযোগ করলেও কোন প্রতিকার পাইনি। দীর্ঘদিন ধরে আমি প্রতিকার না পেয়ে সম্প্রতি জেলা পুলিশ সুপার, দূর্নীতি দমন কমিশন,দিনাজপুর ও বাপাউবো’র প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী, রংপুর বরাবর প্রতারক মামুনের অডিও রেকর্ডসহ অভিযোগ করেছি। এ বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা কর্মচারী পরিদপ্তর শাখা, সহকারী পরিচালক, গোলাম ফারুক এর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি কার্য সহকারী মাহমুদুল হাসান মামুনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের তদন্ত করেছি খুব শিঘ্রই তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করা হবে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে। চলবে--পরবর্তী সংখ্যায় চোখ রাখুন

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *