প্রধানমন্ত্রীর অনুদানে সাংবাদিক মহলে আনন্দ উল্লাস  - Simanto Times
Latest:
Default Ad Banner

Today: 21 Sep 2020 - 07:48:25 am

 প্রধানমন্ত্রীর অনুদানে সাংবাদিক মহলে আনন্দ উল্লাস 

Published on Wednesday, August 12, 2020 at 1:26 pm 10 Views
 প্রধানমন্ত্রীর অনুদানে সাংবাদিক মহলে আনন্দ উল্লাস 
ওসমান গনি :
করোনাকালীন সময়ে দেশের সাংবাদিকদের জন্য অনুদানের দশহাজার টাকার চেক বিতরণ করে প্রমাণ করে দিলেন তিনি দেশের সকল শ্রেনিপেশার মানুষের কত আপনজন।
মানবতার নেত্রী ও গণতন্ত্রের মানসকন্যা বাংলার আপামর জনসাধারণের হৃদয়ের স্পন্দন বাংলাদেশের সফল প্রধানমন্ত্রী  জননেত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্র পরিচালনাকালে বার বারই তার কর্মদক্ষতা বুদ্ধি বিচক্ষণতার মাধ্যমে অতিসহজে সাধারণ মানুষের আপনজন হয়ে উঠছেন। তিনি রাস্ট পরিচালনাকালে সবসময় দেশের প্রতিটা নাগরিকের ব্যাপারে চোখ কান খোলা রেখে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। দেশের কোথায় কি হচ্ছে, কোথায় কখন কি ঘটছে এ ব্যাপারে তিনি সর্বদা সচেষ্ট। তিনি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা গ্রহণকালে বার বার একটি কথা বলেছেন, আমার নিজের কোন চাওয়া পাওয়ার নাই। এ দেশের জনগন সুখশান্তিপূর্ণ পরিবেশে চারটা ডালভাত খেয়ে সুখে শান্তিতে থাকতে পারটাই আমার শান্তি। কোন মানুষ যাতে দেশের মধ্যে না খেয়ে থাকতে হয়, গৃহহীন থাকতে না হয় সে ব্যাপারে তিনি সোচ্চার। তিনি দেশের যেকোন দুর্যোগকালে মানুষের সেবার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বর্তমানে বাংলাদেশ সহ সারাবিশ্বে চলছে করোনার মহামারি। সারাবিশ্ব লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। বিশ্বের বড় বড় দেশেগুলো তা সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে। কিন্তু শত প্রতিকুলতার মাঝেও বাংলাদেশের প্রতিটা নাগরিক ও পেশার জন্য বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষনা করছেন। দান অনুদান দেওয়া অব্যাহত রেখেছেন। করোনাকালীন সময়ে এবারও তার অনুদান থেকে বাদ যায়নি দেশের সাংবাদিক সমাজ। তিনি দেশের গণমাধ্যম কে দিয়েছেন অবাধ স্বাধীনতা। বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট এর মাধ্যমে পিআইবি`র মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক বিশিষ্ট্য সাংবাদিক কবি ও সাহিত্যিক জাফর ওয়াজেদ এর তত্ত্বাবধানে সারাদেশের সিনিয়র সাংবাদিকদের অনুরোধে দেশের প্রত্যন্তঞ্চলে কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর অনুদান দশহাজার টাকার চেক ঈদের আগে বিতরন করেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩০ জুলাই কুমিল্লা টাউনহল সেমিনার কক্ষে কুমিল্লা -৬ আসনের সাংসদ হাজী আকম বাহাহ উদ্দীন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা বাসস এর কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি কামাল আতাতুর্ক মিসেলের সহযোগীতায় জেলার ৭৩ জন মফস্বল সাংবাদিকের হাতে প্রধানমন্ত্রীর অনুদানের দশহাজার টাকার চেক তুলে দেন। এসময় উপস্থিত সাংবাদিকরা করোনার দুঃসময়ে প্রধানমন্ত্রীর অনুদানের চেক হাতে পেয়ে আবেগপ্লুত হয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কে আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন  জানান। এসময় সাংসদ পিআইবি`র মহাপরিচালক ও সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব জাফর ওয়াজেদ এর সাথে মোবাইলে কথা বলে অনুদানের চেক বিতরণ চলমান রাখার আহবান জানান। পরিচালকও তাকে আশ্বস্ত করেন।  এতে করে এই দুঃসময়ে গণমাধ্যম কর্মীদের সামান্যতম হলেও উপকার হয়েছে। গত মার্চ মাসে ৮ তারিখ  করোনার আক্রমণের সময়
 ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও সেনা সদস্যদের পাশাপাশি সাংবাদিকরাও তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন থেকে পিছ পা হননি। করোনাকালীন সময়ে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক সাংবাদিক ভাই করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। অন্যান্য পেশার লোকজন যারা মাঠে স্বশরীরে উপস্থিত থেকে কাজ করছেন তারা রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সুযোগসুবিধা পেলেও সাংবাদিক মহল এ ধরনের তেমন কোন সুযোগ সুবিধা পাননি। সরকারের অনেক পেশার লোকজন অনেকেই বাসাবাড়িতে থেকে তারা তাদের দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু সাংবাদিকতা এমন একটি পেশা যা ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকলে নিউজ কাভার করা সম্ভব হয় না। ঘটনার ছবি তোলাসহ আরও অনেক কাজ ঘটনাস্থলে থেকে করতে হয়। এ জন্য অনেক সাংবাদিক করোনায়  আক্রান্ত হয়েছেন। এতকিছু করার পরও অনেক সাংবাদিক অফিস থেকে তার ন্যায্য পাওনা টুকু পায়নি। অনেক পত্রিকা অফিস অর্থাভাবে সাংবাদিক ছাটাই শুরু করে আবার অনেক পত্রিকা বন্ধ হয়ে যায়। চালু রাখে তাদের অনলাইন। অনেক পত্রিকার প্রকাশনা বন্ধ করে সাংবাদিক-শ্রমিক-কর্মচারীদের পথে বসানো হয়। তখন সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠন মিছিল মিটিং ও মানববন্ধন শুরু করে। সরকার পক্ষ ও মালিক পক্ষের সাথে আলোচনা চলে। চাকরিচ্যুত সাংবাদিকদের চাকরি ফেরতের দাবীতে। সাংবাদিক ও পত্রিকার মালিকদের সাথে সার্বিক বিষয়ে আলোচনাও হয়। তারপর ও অনেক সাংবাদিক চাকরি ফেরত পায়নি। কষ্টে চলে তাদের জীবনযাপন।
এ কারনে অনেক সাংবাদিকের জীবনে নেমে আসে অমানিশার অন্ধকার। জীবন বাচাতে হিমশিম খেতে হয় সাংবাদিকদের। করোনার সময়ে সাংবাদিকদের জীবনমান বিচার বিশ্লেষণ করে ঈদুল আযহা যেন কোনমতে সেমাই পায়েস খেয়ে করতে পারে সেজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রতিটি  সাংবাদিকের জন্য দশহাজার টাকার চেক বিতরন করেন। অনেক সাংবাদিক এই দশহাজার টাকার চেক ঈদের আগে পেয়েছেন আবার কেউ ঈদের পরে পাবেন। এটা পর্যায়ক্রমে সবাইকে দেয়া হবে।
 করোনার দুঃসময়ে সাংবাদিকদের জন্য  আর্থিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়ে শুধু বাংলাদেশ নয় সারা পৃথিবীর ইতিহাসে একটি বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন বাংলার সফল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যা বাংলাদেশের সাংবাদিকরা কোনদিন ভূলবে না।  তিনি শুধু সাংবাদিক নয়, দেশের প্রথিতযশা  শিল্পী,  কবি, সাহিত্যিক, খেলোয়াড় সহ যেকোন পেশার লোকদের ক্রান্তিলগ্নে সাহার্থে হাত বাড়িয়ে দেন। এ জন্য রয়েছে তার ব্যক্তিগত ফান্ড। এটা তিনি তার মানবতার বোধ থেকেই করেন।
 সারা বিশ্বের মত বাংলাদেশেও করোনা মহামারীর কারণে নানা ধরনের সঙ্কটের সৃষ্টি হয়েছে এবং হচ্ছে। সরকার সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে সকল সঙ্কট মোকাবেলা করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন সেক্টরে হাজার হাজার কোটি টাকা প্রণোদনার প্যাকেজ দিয়েছে, প্রায় ৮ কোটি মানুষকে ত্রাণ সহায়তা দিয়েছে, এখনও দিয়ে যাচ্ছে। প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় বেসরকারী খাতের সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
সংবাদপত্রে সরকার সারা বছর ধরেই সহযোগিতা দিয়ে থাকে। পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয়, বিজ্ঞাপনের ইনসার্সন বাড়ায়, ইনকাম ট্যাক্স সুবিধা, এ্যাক্রেডিশন কার্ড, নিউজ পেপারের কোটা, জমিজমা, ব্যাংক লোন সুবিধাসহ গণমাধ্যম মালিকদের অনেক সুবিধা আছে। যার ফলে সারাদেশে হাজার হাজার সংবাদপত্র, প্রায় অর্ধশতাধিক টিভি চ্যানেল, অনলাইন নিউজ পোর্টাল চালু রয়েছে। প্রতিদিন অনলাইন-অফলাইনের সংখ্যা বাড়ছেই।
করোনা সংক্রমণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সরকার দায়িত্বপালনরত করোনাযোদ্ধা সাংবাদিকদের পাশে আছে, থাকবে। সরকারের এই সদিচ্ছার প্রতিফলন সাংবাদিকদের উৎসাহিত করবে। তারা সাহস পাবে। জাতির এই দুঃসময়ে সাংবাদিকরা দেশ ও জাতির কল্যাণে-মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে অসাম্প্রদায়িক সমাজ প্রতিষ্ঠায় সরকারের কল্যাণমূলক কর্মকান্ডের খবর দেশবাসীকে অবহিত করবে। অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়ন ধারাকে এগিয়ে নেয়ায় সহযোগিতা করবে-এ কথা নিশ্চিত করেই বলা যায়। সাংবাদিক বান্ধব প্রধানমন্ত্রীর শাসনামলে সংবাদমাধ্যম গুলো যেভাবে সরকারী বিভিন্ন সুযোগসুবিধা গ্রহণ করছে এ ধারা অব্যাহত রেখে সাংবাদিকরা কাজ করে সামনের দিকে অগ্রসর হলে সংবাদমাধ্যমের ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল হতে পারে। সাংবাদিকরা দেশের উন্নয়নমূলক কাজ গুলো দেশ ও বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে হবে। কিছু পেতে হলে কিছু দিতে হয়। সরকারের উন্নয়নমুখী কাজ নিয়ে মিডিয়ায় বিশদ আলোকপাত করে লিখতে হবে। যাতে করে দেশবিদেশে সরকারের সুনাম অর্জন হয়। সেদিক খেয়াল রাখতে হবে সাংবাদিক সমাজ কে।
Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *