নীলফামারীর ডিমলায়  সংঙ্গীতশিল্পী দৃষ্টিপ্রতিবন্ধি নিমাই বর্মণ পেল না বিশেষ অনুদান - Simanto Times
Latest:

Today: 13 Apr 2021 - 04:56:05 am

নীলফামারীর ডিমলায়  সংঙ্গীতশিল্পী দৃষ্টিপ্রতিবন্ধি নিমাই বর্মণ পেল না বিশেষ অনুদান

Published on Thursday, August 6, 2020 at 3:40 pm 222 Views

নীলফামারীর ডিমলায়  সংঙ্গীতশিল্পী দৃষ্টিপ্রতিবন্ধি নিমাই বর্মণ পেল না প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ অনুদানহামিদা আক্তার, স্টাফ রিপোর্টার : নীলফামারীর ডিমলায় করোনাভাইরাস সংক্রমণ জনিত কারণে ২০১৯-২০ অর্থবছরে অসচ্ছল সংস্কৃতি শিল্পীদের মাঝে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ অনুদানের ৬০ হাজার টাকার চেক বিতরণ করা হয়। পেশাদার সঙ্গীতশিল্পী জন্ম থেকেই দৃষ্টি প্রতিবন্ধি নিমাই চন্দ্র বর্মণ (৫৫) এর ভাগ্যে জুটলো না প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বিশেষ অনুদানের টাকা। এ অনুদানের অর্থ না পাওয়ায় এলাকায় আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইছে। স্থানীয়রা বলছে এই অসহায় সংস্কৃতিসেবী এই দৃষ্টি প্রতিবন্ধিকে না দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ অনুদানের টাকা প্রদান করা হয়েছে সচ্ছল ও অপেশাদার ব্যক্তিদের মাঝে। পেশাদার শিল্পীরা এই অনুদানের অর্থ না পাওয়ায় চাপা ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে তাদের মাঝেও।
নাম প্রকাশে অনৈচ্ছুক সংস্কৃতিসেবীরা জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন প্রকার যাচাই-বাচাই না করে মনগড়া ভাবেই পেশাদার নয়, সচ্ছল ও ভিন্ন পেশার ব্যক্তিকে এ অনুদানের অর্থ প্রদান করা হয়েছে। খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায়, ডিমলা সদরের বাবুরহাট গ্রামের মৃত কালা চাদ এর পুত্র জন্ম থেকেই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধি সংঙ্গীত শিল্পী নিমাই চন্দ্র বর্মণ দোতারা বাঁজিয়ে হাট-বাজার, গ্রামে-গঞ্জে গান গেয়ে উপার্জিত টাকায় কোন মতে সংসারের ঘানি টানছেন জীবনের পুরোটা সময় ধরেই। এ খরব পেয়ে ৭ আগষ্ট বিকালে সংঙ্গীত শিল্পী দৃষ্টিপ্রতিবন্ধি নিমাই দা’র বাড়ীতে সরেজমিনে যাই আমরা ক’জন গণমাধ্যমকর্মী। এ সময় দেখা যায় দৃষ্টি প্রতিবন্ধি নিমাই দা বাড়ীর সাথেই ছোট্ট একটি দোকানে শুয়ে আছেন। সংবাদকর্মী দেখেই শারিরীক প্রতিবন্ধি স্ত্রী আরতী বালা ডাকে নিমাই দা’কে।
সংবাদকর্মীর কথা শুনেই নিমাই দা বলে উঠলো বসিবার দে। এ্যামরায় তো মোক দেখে। মোর কথা পেপারোত দেয়। মুই কষ্টে আছো দাদারে। এই করোনায় তো মুই বাড়ী থাকি বের হও না। আর বাড়ী থাকি বের না হলে গানও গাবার পাও না। টাকাও কামাই হয় না। এ্যালা মানুষ জড়ো হোয়া গানও শুনে না। খুব কষ্টে আছো দাদারে। তোমরা গুলা আইসছেন কেনে। প্রধানমন্ত্রী বিশেষ অনুদান দিছে নিমাই দা পাননি এই প্রশ্নের উত্তরে নিমাই দা বলেন, মুই পড়ে শুননো ইউএনও বলে টাকা দিছে। তা মোক তো দিলো না। মুই কি জানো ফরম আইসছে পুরন করির লাগিবে। ফরম পুরন কর নাই সেই জন্য মুইও টাকা পাও নাই।
দৃষ্টি প্রতিবন্ধি নিমাই চন্দ্র বর্মণ ওরফে নিমাই দা’র (মহান সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ব) বিশেষ গুন তিনি নিজেই গান লিখেন ও সুর করেন। দেশের জনপ্রিয় কণ্ঠ শিল্পীদের জনপ্রিয় গানগুলিও গেয়ে থাকেন ভালো ভাবেই। গানের গলা ভালো হওয়ায় গান গেয়েই তিনি মানুষের মন জয় করেন। গানের স্রোতারা নিমাই দা’র গান শুনে মুগ্ধ হয়ে যান। জন্ম থেকেই দৃষ্টি প্রতিবন্ধি হওয়ায় আর গানের প্রতি মনের টান থেকেই বুঝি তিনি এই গানকেই জীবনের সাথী করে নিয়েছেন।
তাৎক্ষনিক সংবাদকর্মীদের সামনেই জনপ্রিয় এইগানগুলি গেয়ে ওঠেন-এই এ গানে-ই আমার জীবন মরন এ গানে-ই যেন প্রাণ,মোক আর ভালোই লাগে না, মোক কি আজরাইল দেখে না, সুন্দর ভুবনে নেই যার চোখের আলো এ রকম নানা গানে তিনি গেয়ে যান দোতারার শুরের মূর্ছনায়। খুব অল্প বয়সেই শারীরিক প্রতিবন্ধি আরতী বালাকে সাত পাকে ঘুরিয়ে জীবনের সাথে জড়িয়ে জীবন সংসারে জন্ম দেন তিন ছেলে। এক সময় এই তিন ছেলে আর স্ত্রীকে নিয়ে গান গেয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। এ কারনে তার সংঙ্গীত জীবনের বিভিন্ন সময়ে জাতীয় ও স্থানীয় খবরের কাগজে ছাপা হয় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধি সংঙ্গীতশিল্পী নিমাই বর্মনের জীবন সংগ্রামের নানা গল্প। ফলে সেই মধ্যবয়সী নিমাই দার ডাক আসে বাংলাদেশ বেতার রংপুর থেকেও। সে থেকে আজোবধি বেতারে গান গেয়ে আসছেন নিমাই দা। সেখান থেকেই যা সামান্য সম্মানী পেতেন তা দিয়ে চলত না সংসার জীবন। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে আর গানের ডাক পড়ে না বেতারে। যেতে পারে না হাট-বাজার কিংবা গ্রাম-গঞ্জে। গান ছাড়েননি তিনি। গান গেয়েই উপার্জন করেন অর্থ। সেই অর্থ দিয়েই চলত সংসার জীবন। নিমাই দা জানায়, করোনা ভাইরাস শুরু হওয়ার পরেই বন্ধ হয়ে যায় গান গেয়ে উপার্জন। অতি কষ্টে চলছে জীবন। প্রধানমন্ত্রীর অনুদান পাইলে ভালোই হইল হায়। কি করিম পাও নাই কষ্টে আছো মুই।
উল্লেখ্য, গত ৫ আগষ্ট বুধবার ডিমলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার কার্যালয়ে নির্বাহী কর্মকর্তা জয়শ্রী রানী রায়ের সভাপতিত্বে সংস্কৃতিসেবীর মাঝে ৬০ হাজার টাকার চেক বিতরণ করা হয়। উক্ত চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মীর মোঃ আল কামাহ তলাম, বাংলাদেশ গণশিল্পী সংস্থার ডিমলা উপজেলা শাখার সভাপতি বৈদাস চন্দ্র রায়, সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাইফুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক মিলন রায়, ডিমলা মিউজিক ভুবনের সভাপতি আব্দুস সালাম, ডিমলা সংগীত ভুবনের পরিচালক আমিনুর রহমান উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের সংস্কৃতিসেবীগণ। এ সময় ১২ জন অসচ্ছল সংস্কৃতিসেবীদের হাতে প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *