তিস্তার জোয়ারে ব্যারাজের উজানে ১৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সংকটে গাইড বাঁধে আশ্রয় নেয়া পরিবারগুলো - Simanto Times
Latest:
Default Ad Banner

Today: 12 Aug 2020 - 05:02:39 pm

তিস্তার জোয়ারে ব্যারাজের উজানে ১৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সংকটে গাইড বাঁধে আশ্রয় নেয়া পরিবারগুলো

Published on Monday, July 13, 2020 at 3:28 pm 18 Views

তিস্তার জোয়ারে ব্যারাজের উজানে ১৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সংকটে গাইড বাঁধে আশ্রয় নেয়া পরিবারগুলোহামিদা আক্তার স্মৃতি, স্টাফ রিপোর্টার : ভারীবর্ষণ আর ভারতের গজল ডোবার জলকপাট খুলে দেয়ায় উজানের ঢলে তিস্তার জোয়ারের পানিতে সৃষ্ট কন্যায় নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের অন্তত ১৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। গত শুক্রবার সকাল থেকে হটাৎ তিস্তা ব্যারাজের উজানে পানির প্রবাহ বাড়তে থাকে ক্রমাগত। ফলে প্লাবিত হয় খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের দোহলপাড়া, কিসামত চর ও ফকোরতের চর, পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের ঝাড়শিংহেররশ্বর, টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের টাপুর চর, পূর্বখড়িবাড়ী, ভাষানীর চর, একতার চর ও খালিশা চাপানী ইউনিয়নের বাইশপুকুর ও ছোটখাতাসহ তিস্তা অববাহিকার গ্রামগুলো। রোববার বিকালে ব্যারাজের উজানে ছোটখাতা, গয়াবাড়ী ও পূর্বখড়িবাড়ী গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, তিস্তার পানি ক্রমাগত বাড়তে থাকায় প্লাবিত হয়ে পানিবান্দি হয়ে পড়েছে গ্রামগুলি। গেল ৪ দিন ধরে বন্যার পানি নেমে না যাওয়ায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট। আমাশয়, ডায়রিয়া, সর্দি কাশি ও জ্বরে কাবু হয়ে পড়েছে শিশু ও বৃদ্ধ বয়সের মানুষজন। ছোট ছোট নৌকা ও ডিংগী বেয়ে তারা বাজার ঘাটসহ চলাচল করছে এ বাড়ী ও বাড়ী। রোববার বন্যাকবলিত এলাকা কিসামতের চর পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার জয়শ্রী রানী রায়, ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম লিখন ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ফেরদৌস আলম প্রমূখ। তিস্তা ব্যারাজের বন্যা পর্যবেক্ষন ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র জানায়, গত তিনদিন ধরেই উজানের ঢলে পানি বিপদসীমার উপড় দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পানি নেমে যাওয়ার জন ব্যারাজের সব ক’টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে। ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, তিস্তা এলাকায় রেট এলার্ট জারি করা হয়েছে। প্লাবিত গ্রামগুলি থেকে মানুষজনকে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে। তিস্তার জোয়ারে ব্যারাজের উজানে ১৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সংকটে গাইড বাঁধে আশ্রয় নেয়া পরিবারগুলো
এদিকে তিস্তার ডানঁতীরে তিস্তা রক্ষা স্বপন বাঁধটি ভেঙ্গে গিয়ে তিস্তাপাড়ের বসতঘর-বাড়ী নদী গর্ভে বিলীণ হচ্ছে প্রতিনিয়ত। টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের পূর্বখড়িবাড়ী গ্রামের প্রায় শতাধিক পরিবার ভাঁঙ্গন আতঙ্গে দিনাতিপাত করছে। এলাকাবাসী জানান, তিস্তার ডাঁনতীরে স্বপন বাঁধটির প্রায় ১ হাজার ৫’শ মিটার ধ্বসে গিয়ে ৩৫টি পরিবারের বসতভিটা ও বাড়ীঘর নদী গর্ভে বিলীণ হয়ে গেছে। নদীগর্ভে বিলীন হতে থাকা বাঁধটি ভাঁঙ্গন রোধে যদি স্পার কিংবা পাইলিং করা না হয় আরো প্রায় শতাধিক বসতভিটা তিস্তার গর্ভে চলে যাবে। বসতভিটা নদী গর্ভে চলে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে ভাঙ্গনের শিকার পরিবারের মানুষজন। ভাঙ্গনের কবলে পড়ে বাড়ীঘর সরিয়ে নিয়ে পাউবোর গাইড র্বাধে আশ্রয় নিয়েছে তারা। টেপাখড়িবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ ময়নুল হক জানান, ইতিমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত স্বপন বাঁধটি অব্যাহত ভাবে ধীরে ধীরে নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। তিনি বাঁধটি রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
তিস্তার জোয়ারে ব্যারাজের উজানে ১৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সংকটে গাইড বাঁধে আশ্রয় নেয়া পরিবারগুলো এদিকে উজানের ঢলে ও ভারী বর্ষনের ফলে প্রায় ১৫ হাজার পরিবার সৃষ্ট বন্যায় পানিবন্দি হয়ে পরেছে। টেপাখড়িবাড়ী ইউপি’র উত্তর ও দক্ষিন খড়িবাড়ী গ্রামের তিস্তা রক্ষা স্বপন বাঁধের প্রায় ১ হাজার ৫’শ মিটার নদী গর্ভে বিলীণ হওয়ায় ভাঙ্গনের কবলে পরে এসব পরিবার।
সোমবার সকালে সরজমিনে তিস্তাপারে দেখা যায়, তেলির বাজারের উত্তর ও দক্ষিনে ভাঙ্গনের শিকার পরিবারগুলি আশ্রয় নিয়েছে গাইডবাঁধে। দ্রুত তিস্তার পানি নেমে যাওয়ায় ভাঙ্গন আতঙ্গে পরেছে তিস্তারপারের মানুষ। টানা ভারীবর্ষনসহ অব্যাহত বৃষ্টিপাত হওয়ায় দুর্ভোগে পড়ে এ অঞ্চলের মানুষজন। আকর্ষিক স্বপন বাঁধটি পানির তোড়ে ভেঙ্গে যাওয়ায় তৈয়ব আলী, ইলিয়াছ আলী, মোকফর আলী বসত বাড়ীটি নদী গর্ভে চলে গেছে। ফলে স্বর্বশান্ত হয়ে পরেছে পরিবার গুলি। ভেঙ্গে যায় উক্ত এলাকায় আরো ৮টি পরিবারের বাড়ী-ঘর। ভাঙ্গনের শিকার পরিবারের সদস্যরা নি:শ্ব রিক্ত হস্তে প্রাণে বেঁচে যান বলেও জানান ৭৫ বছর বয়সী বৃদ্ধ তৈয়ব আলী। বন্যা কবলিত এলাকায় টিউবয়েল ও লেট্রিনের সংকটসহ দেখা দিয়েছে জ্বর, সর্দি কাশি, আমাশয়,ডায়নিয়াসহ নানা রোগ। বিশেষ করে অসুস্থ্য হয়ে পড়ছে শিশু ও বৃদ্ধরা।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সারোয়ার আলম বলেন, বন্যায় প্লাবিত ও নদী ভাঙ্গন এলাকায় জরুরী মেডিকেল টিম সার্বক্ষনিক স্বাস্থ্য সেবায় নিয়োজিত রয়েছে এবং মনিটরিং করা হচ্ছে । ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ ময়নুল হক জানান, ভাঙ্গন কবলিত স্বপন বাঁধটি দ্রুত সংস্কার ও পাইলিং কিংবা ৩ নং গ্রোয়েন বাধ নির্মান জরুরী হয়ে পড়েছে। উল্লেখ্য, শনিবার তিস্তার পানি বিপদসীমার ৫৩ সেমি উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় ডালিয়ার পাউবো কর্তপক্ষ জারি কারেন রেট এলার্ট। তিস্তার অববাহিকায় নিম্নাঞ্চল থেকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়ে ছিলো মানুষজনকে। সোমবার তিস্তা পাড়ে রেট এলার্ট প্রত্যাহার করেছে পাউবো কর্তৃপক্ষ।
সোমবার বিকালে ব্যারাজের উজানে কলম্বিয়া গ্রোঁয়েণ বাঁধ সংলগ্ন ছোটখাতা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, তিস্তার পানি কমতে থাকলেও এখনও প্লাবিত রয়েছে গ্রামগুলি। গত ৪ দিন ধরে বন্যার পানি নেমে না যাওয়ায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট। আমাশয়, ডায়রিয়া, সর্দি কাশি ও জ্বরে কাবু হয়ে পড়েছে শিশু ও বৃদ্ধ বয়সের মানুষজন। বন্যাকবলিত এলাকাগুলি সার্বক্ষনিক খোজখবর রাখছেন ডিমলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জয়শ্রী রানী রায়।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *