নাউতারা নদীর আকাশকুড়ি মৌজা ভাঙ্গনের কবলে : হুমকীর মুখে নদীর ধারে পাঁচ সহস্রাধিক বাড়ীঘর - Simanto Times
Latest:
Default Ad Banner

Today: 10 Aug 2020 - 08:27:39 am

নাউতারা নদীর আকাশকুড়ি মৌজা ভাঙ্গনের কবলে : হুমকীর মুখে নদীর ধারে পাঁচ সহস্রাধিক বাড়ীঘর

Published on Monday, July 6, 2020 at 5:47 am 24 Views

নাউতারা নদীর আকাশকুড়ি মৌজা ভাঙ্গনের কবলে হুমকীর মুখে নদীর ধারে পাঁচ সহস্রাধিক বাড়ীঘরহামিদা আক্তার স্মৃতি, স্টাফ রিপোর্টার : নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার নাউতারা ইউনিয়নের বুক চিরে বয়ে যাওয়া সম্প্রতি উজানের ঢলে ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারনে নাউতারা নদীতে সৃষ্ট বন্যায় আকাশকুড়ি মৌজাসহ নদীর উভয় দিকে ই্উনিয়নটির ৭টি পয়েন্টে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ভাঙ্গন এলাকার মানুষজন। নদী গর্ভে চলে যাচ্ছে নদীর পাড়ে থাকা আবাদী জমিগুলো। জনপ্রতিধিদের ও স্থানীয়দের দাবী বর্তমান সরকারের নদী খনন প্রকল্পের মাধ্যমে নাউতারা নদীটিও খনন করা হয়। ফলে এবারে নদী এলাকায় বন্যার পানি ছড়িয়ে ছিটিয়ে না গিয়ে একই ধারায় নদীর গতিপথে বয়ে চলেছে। একারনে পানির শক্তিও বেড়েছে বহুগুন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ কিছু কিছু জায়গায় নদীটির মূল গতিপথে খনন না করে স্থানীয় প্রভাবশালীদের মন রক্ষায় আকাশকুড়ি মৌজায় নদীর গতিপথ পরিবর্তন করে খনন করার ফলে বন্যার পানির তোড়ে এসব এলাকা ভাঙ্গনের কবলে পড়ে। আকাশকুড়ি মৌজার গোলজার হোসেন, মহিউদ্দিন, কাজল, নুরু মিয়া, আব্দুর রহমান, আব্দুল বারেক,আমিনুর, আবুল কালাম,যাদু, মিনাল দাসসহ আরো অনেকে জানান, নদীটি খনন করে নদীর দুই ভারে বালু দিয়ে বাঁধ তৈরী করা হয়। কিন্তু ভারী বর্ষনের ফলে নিম্নাঞ্চলগুলি প্লাবিত হলে সেই পানি গিয়ে নদীতে মিলিত হওয়ার কোন জায়গা বা ড্রেন রাখেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। যার কারনে নদীর দুই ধাওে উচু নিচু জায়গায় জমে থাকা পানির তোড়ে বাঁধ ভেঙ্গে পানি ঢুকে পড়ে নদীতে। একারনেই ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়েছে বলেও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান। তারা আরো জানায়, নদীটি সোজা না করেই যেখানে বাঁকা করা হয়েছে সেখানেই ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়েছে। নাউতারা নদীর আকাশকুড়ি মৌজা ভাঙ্গনের কবলে হুমকীর মুখে নদীর ধারে পাঁচ সহস্রাধিক বাড়ীঘর
সম্প্রতি নাউতারা নদীর আকাশকুড়ি মৌজায় ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শনের আসেন ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)’র নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম। পরিদর্শন কালে তিনি বলেন আমরা নাউতারা ইউনিয়নের ৭টি পয়েন্ট ভাঙ্গনের বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের চিঠি প্রেরণ করেছি। অনুমতি পেলেই ভাঙ্গন কবলিত এলাকাগুলিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন নাউতারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম লেলিন, সংশ্লিষ্ট এলাকার ইউপি সদস্য নাজমুল ইসলাম লাভলু, পাউবো’র এসও মোস্তাফিজুর রহমান, সাংবাদিক আসাদুজ্জামান পাভেল, মোহাম্মদ আলী সানু ও স্থানীয় গণ্যমান্যব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
এই নদীটির পরিচিতি উল্লেখ করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম লেলিন ও ইউপি সদস্য নাজমুল ইসলাম লাভলু প্রতিবেককে বলেন, এই নাউতারা নদীটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে বয়ে এসে বাংলাদেশ সীমান্তে পশ্চিশছাতনাই ইউনিয়নে প্রবেশ করে পূর্বছাতনাই, খগাখড়িবাড়ী, গয়াবাড়ী ইউনিয়ন ঘেষে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার নাউতারা ইউনিয়নের পেট চিরে প্রবাহিত হয়ে জলঢাকা উপজেলায় বুড়িতিস্তা নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে। এ কারনে নদীটির নামকরণ করা হয় নাউতারা।
এ সময় আরো জানা যায়, এই নদীটির দৈর্ঘ্য ৬০/৬৫ কিলোমিটার আর প্রস্তে ৩৫/৪০ মিটার। নদীটি সর্পিলাকার প্রকৃতির বলেও সূত্রে জানা যায়। বাংলাদেশ পানি উন্ন্য়ন বোর্ড (বাপাউবো) সূত্রে জানা গেছে, কালুদাহা এই নদীটি উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের নদী নং-২০। একই সাথে কুমলাই নদীটিও নাউতারা নদীর একটি উপনদী। কুমলাই নদীটিও প্রবাহিত হয়ে পরবর্তীতে আকাশকুড়ি মৌজায় এসে মূল নদী নাউতারায় মিলিত হয়েছে। অন্যদিকে বুড়ি তিস্তার উপনদী হলো এই নাউতারা নদী। এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে কথায় নাউতারা ও কুমলাই নদী উভয়ে বুড়িতিস্তার উপনদী। নাউতারা নদীটির নাব্যতা হারিয়ে ফেলেছিলো। কিন্তু বর্তমান সরকারের যুগোপোযোগী সিন্ধান্তে নদী খনন প্রকল্পের আওতায় এনে খনন করা হলে মৃতপ্রায় নদীটি জলের নাব্যতা ফিরে পেয়েছে। বর্তমানে নাউতারা নদীটি তার পূর্বের যৌবনা নদীতে পরিণত হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *