ভারীবর্ষন ও উজানের ঢলে ডিমলায় তিস্তার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত : পানিবন্দি দুই সহস্রাধিক পরিবার - Simanto Times
Latest:
Default Ad Banner

Today: 10 Aug 2020 - 03:24:27 am

ভারীবর্ষন ও উজানের ঢলে ডিমলায় তিস্তার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত : পানিবন্দি দুই সহস্রাধিক পরিবার

Published on Sunday, June 28, 2020 at 5:49 am 21 Views

ভারীবর্ষন ও উজানের ঢলে ডিমলায় তিস্তার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত : পানিবন্দি দুই সহস্রাধিক পরিবারহামিদা আক্তার, স্টাফ রিপোর্টার : উজানের ঢলে ও টানা ভারী বর্ষনে নীলফামারীর ডিমলায় ১০টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলগুলি প্লাবিত হয়েছে। প্রায় দুই সহস্রাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে তিস্তার নিম্নাঞ্চলে। হটাৎ টানা ভারীবর্ষনসহ অব্যাহত বৃষ্টিপাত শুরু হওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছে এ অঞ্চলের মানুষজন। তিস্তার পানি বিপদ সীমার ২০ সেমি উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সর্তক অবস্থায় রয়েছে নিম্নাঞ্চলে বসবাসকারী তিস্তা পাড়ের মানুষ। তিস্তার অববাহিকায় নিম্নাঞ্চল থেকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে মানুষজনকে। তিস্তা পানির প্রবাহ বাড়ছে ক্রমাগত। ফলে প্লাবিত হয়েছে তিস্তার অববাহিকায় নিম্নাঞ্চলের গ্রামগুলি। ব্যারাজের উজানে তিস্তার পানিতে প্লাবিত হয়ে এখনও পানিবন্দি রয়েছেন অন্তত দুই সহস্রাধিক  পরিবার। টানা অব্যাহত বৃষ্টিপাতের ফলে পানিবন্দি গ্রামে দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানিসহ খাবার সংকট। টিউবয়েল ও লেট্রিনগুলি তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি গৃহবধুঁরা চৌকির উপর চুলা বসিয়ে রান্না করছে। এদিকে তিস্তার ভাঁঙ্গনের কবলে পরেছে তিস্তার ডাঁনতীরে বসবাসকারীরা। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তিস্তাা পাড়ের পরিবারগুলো। ইতিমধ্যে নদীগর্ভে চলে গেছে ১০টি পরিবারের বসতভিটা ও বাড়ীঘর। প্লাবিত গ্রামগুলিতে স্বাস্থ্য বিভাগ জরুরী স্বাস্থ্য সেবা ক্যাম্পে প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবাসহ পানি বিসুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও খাবার সেলাইন সরবারহ করছে। প্লাবিত গ্রামগুলিতে জরুরী মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা ডাঃ সারোয়ার আলম বলেন, আমাদের স্বাস্থ্যকর্মীরা প্লাবিত গ্রামগুলিতে সার্বক্ষনিক খোজখবর রাখছেন। প্রয়োজনে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদানের জন্য কমিউনিটি ক্লিনিকে সেবা দেওয়া অব্যাহত রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, তিস্তা এলাকায় সব সময় পানি উঠা নামার উপড় নজর দারী জোড়দার করা হয়েছে। নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে মানুষজনকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে তিস্তা ব্যারেজের সবক’টি ( ৪৪ ) জল কোপাট খুলে দেয়া হয়েছে। ভারীবর্ষন ও উজানের ঢলে ডিমলায় তিস্তার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত : পানিবন্দি দুই সহস্রাধিক পরিবার
খগাখড়িবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম লিথন, ইউপি সদস্য আজিজুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান ও জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছে, পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ডিমলা উপজেলার তিস্তা এলাকার ৫টি ইউনিয়নের দুই সহস্রাধিক পরিবার। তিস্তা পানি বেড়ে যাওয়া সৃষ্ট বন্যায় ভাঙ্গনের কবলে পড়ে বসতবাড়ীসহ চরাঞ্চলের আবাদ জমির ফসলাদি ও বীজতলার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শুক্রবার সকালে তিস্তার পানি ডালিয়া ব্যারেজ পয়েন্টে বিপদসীমার ১৮ সেন্টিমিটার উপড়ে থাকলেও তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে শনিবার বিকেলে ২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিলো। পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া বিভাগের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, তিস্তার পানি বিপদসীমার ১৮ সেন্টিমিটার উপড় দিয়ে প্রবাহিত হলেও গভীর রাতে উজানের ঢলে ও ভারি বৃষ্টি পাতের ফলে তা বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার উপড় দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত শনিবার ৮৮.১ মি.মি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।
উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের পূর্বখড়িবাড়ীর একতার বাজার, চরখড়িবাড়ী, পূর্ব খড়িবাড়ী, পশ্চিম টাপুর চর , পূর্বছাতনাই ইউনিয়নের ঝাড়সিংহেরশ্বর, ঝুনাগাছচাপানী ইউনিয়নের তিস্তা নদী বেষ্টিত এলাকা ভেন্ডাবাড়ী, ছাতুনামা, খালিশা চাপানী ইউনিয়নের পূর্ব বাইশপুকুর, ছোটখাতা, খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের কিসামত ছাতনাই, দোহলপাড়া গ্রামে দুই সহস্রাধিক পরিবারের মানুষজন পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পনি বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্যার কারনে গবাদি পশু ও পালিত হাস মুরগি উচু জায়গায় সড়িয়ে নেয়া হয়েছে বলেও তারা জানিয়েছেন। ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়শ্রী রানী রায় জানান, তিস্তা নদীর প্লাবিত এলাকগুলিা পরিদর্শন করেছি, শুক্রবার ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের পানিবন্দি পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার ও নগদ ২ হাজার করে টাকা বিতরন করেছি। জেলায় ত্রানের চাহিদাপত্র প্রেরন করা হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *