Latest:
Default Ad Banner

Today: 26 May 2020 - 09:08:24 pm

ডিমলায় মিথ্যা মামলার খবর পেয়ে মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীর হার্ট এ্যাট্যাক আসামীদের গ্রেফতারের দাবী মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের

Published on Thursday, March 19, 2020 at 6:18 am 51 Views

ডিমলায় মিথ্যা মামলার খবর পেয়ে মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীর হার্ট এ্যাট্যাক আসামীদের গ্রেফতারের দাবী মুক্তিযোদ্ধা পরিবারেরহামিদা আক্তার , নীলফামারী প্রতিনিধি : নীলফামারীর ডিমলায় ১৪ মার্চ’২০ সকালে মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীকে মারপিটের ঘটনায় বীরমুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম’র মামলা থানায় রুজ্জু হয়েছে। এ ঘটনায় আসামীরা থানাকে প্রভাবিত করে মুক্তিযোদ্ধার ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা রুজ্জুর চেষ্টায় দৌঁড়ঝাপ অব্যাহত রেখেছেন। এ ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের স্ত্রীকে মারপিটে আহত করায় এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। মামলা হওয়ার ৫ দিন পেরিয়ে গেলেও আসামীদের গ্রেফতার করতে পারেনি থানা পুলিশ বলে আিভযোগ তুলেছেন নির্যাতনের শিকার মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম সরকার ও তার পরিবারটি। উল্টো থানা থেকে বলা হয়েছে আসামীদের দেওয়া মামলাটিও রেকর্ড করা হবে মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের বিরুদ্ধে। মিথ্যা মামলা রেকর্ড করা হবে বিষয়টি বীরমুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে প্রায় দেড় শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা গত ১৭ মার্চ জাতির জনকের শত জন্মবার্ষিকী পালনের প্রথম দিনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে ডিমলা থানায় গিয়ে অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মফিজ উদ্দিন শেখের সাথে দেখা করেন। প্রশ্ন তুলেন কেন মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা রুজ্জু করা হবে। মারপিটের ঘটনায় পরিবারটি দোষী হলে মামলা হত এতে আমাদের কোন আপত্তি থাকতো না। এক পর্যায়ে ওসি বলেন, রেকর্ড হলেই তো তারা দোষী প্রমানিত হবে না, প্রয়োজনে আমি বাদীর বিরুদ্ধে ফাইনাল দিয়ে দিবো। যেখানে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে সম্পূর্ন রুপে ঐ মুক্তিযোদ্ধার পরিবারটি নির্দোষ সেখানে শুধুমাত্র তাদেরকে হয়রনাীর জন্যই এ মিথ্যা মামলা রুজ্জু করা হবে কেন ? এরপর প্রায় দেড় শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা থানা থেকে চলে আসেন। এরপরেও ঐ মিথ্যা মামলা রুজ্জুর ব্যাপারে বিভিন্ন মহলে দৌড়ঝাপ অব্যাহত রেখেছেন মামলার প্রধান আসামী মাহমুদুল হাসান মামুন বলে খবর পাওয়া গেছে। এদিকে এ ঘটনায় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা তবিবুল ইসলাম বলেন, আমি কয়েকবার মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা গ্রহন না করার কথা ওসিকে বলেছি। এ মিথ্যা মামলা রেকর্ড করা হবে এ কথা শুনে হাসাপাতালে অসুস্থ্য থাকাবস্থায় হার্ট এ্যাটাক করেন তার স্ত্রী। খবর পেয়ে আমি হাসপাতালে দেখতে গিয়ে ওসিকে বলেছি এ মিথ্যা মামলা রেকর্ড এর কারনে মুক্তিযোাদ্ধার স্ত্রীর কিছু হলে কেহই ছাড় পাবে না। একই ভাবে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার সামছুল হক বলেন, আমিও ওসি সাহেবকে একই কথা বলেছি। মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কোন দোষ নেই। তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হলে প্রয়োজনে বিষয়টি উচ্চ মহলের দৃষ্টিতে আনা হবে। তিনি আরো বলেন, মিথ্যা মামলা রেকর্ড হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জয়শ্রী রানী রায়ের কাছে গিয়ে সত্য ঘটনার বিচার চেয়ে এবং মিথ্যা মামলার রুজ্জুর চেষ্টার বিষয়ে জানালে তিনি বলেন, বীরমুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলায় হয়রানীর কোন প্রশ্নই উঠে না। আমি ওসিকে বলে দিচ্ছি তিনি যেন মিথ্যা মামলা রুজ্জু না করেন। আমি বিষয়টি আমার নজরে রাখরো। উল্লেখ্য, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নির্বাচিত কমান্ডারের মেয়াদ শেষ হওয়ায় উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সকল কার্যক্রম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উপড় ন্যাস্ত হয়েছে। মারপিটের ঘটনায় একবিন্দুও দোষ ছিলো না মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের বলে প্রত্যক্ষদর্শী পুষ্প রানী সেন, স্বপন চন্দ্র রায়, নুরুল ইসলাম, অজিবর রহমান শান্ত, পরিমল চন্দ্র রায়, জাভেদ হোসেন, আজিজুল ইসলামসহ আরো অনেকেই ঘটনাস্থলে থাকা প্রত্যক্ষদর্শী মেডিকেল মোড়স্ত এলাকাবাসীগণ। ডিমলায় মিথ্যা মামলার খবর পেয়ে মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীর হার্ট এ্যাট্যাক আসামীদের গ্রেফতারের দাবী মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের
উল্লেখ্য, ঘটনারদিন বীরমুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী, পুত্র ও বীরমুক্তিযোদ্ধাকে মারধর ও লাঞ্চিত করে উল্টো তাদের নামে মামলা করার পায়তারা করছে পঞ্চগড় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)’র কার্যসহকারী মাহমুদুল হাসান মামুন। মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের প্রতি এ অর্তকিত হামলার ঘটনায় এলাকায় তাদের বিরুদ্ধে শাস্তির দাবী তুলেছে এলাকাবাসী। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সোহেল রানা মাসুদ সিএইচসিপি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মাসিক মিটিং এর উদ্দেশ্যে মেডিকেল মোড় বাসা হতে হাসপাতালে হেটে যাওয়ার পথে পুষ্প রানীর চায়ের দোকানের সামনে পূর্ব পরিকল্পনা মাফিক ওৎ পেতে থাকা পাউবো’র কার্য সহকারী মাহমুদুল হাসান মামুন, তার পিতা আবুল কাশেম কালু, তার স্ত্রী আরজু হোমায়ারা তনু, মা মায়া বেগম তার বড় শালিকা আলিফা বেগমকে সাথে নিয়ে অর্তকিতভাবে সোহেল রানার উপর হামলা চালায়। স্থানীয়রা জানান, তারা মুক্তিযোদ্ধার ঐ সন্তানকে উপর্যুপরি মারতে থাকলে মাসুদের মা ও বাবা বীরমুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম ছুটে আসেন। ঘটনার এক পর্যায়ে মামুন ও তার পরিবারের লোকজন আরো বেশী ক্ষিপ্ত হয়ে মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী মরজিনা বেগম ও মুক্তিযোদ্ধাকেও মারতে থাকে। বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী আশংকা জনক অবস্থায় ডিমলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হোক এবং বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবারটি ন্যায় বিচারপাক এ দাবী জানিয়েছে এলাকাবাসীও। এ ঘটনায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম সরকার বাদী হয়ে মাহমুদুল হাসান মামুনকে প্রধান আসামী করে থানায় একটি এজাহার দায়ের করায় গত ১৫ মার্চ থানায় মামলা রুজ্জু করা হয়েছে যার নম্বর- ১২/৫০। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের বিরুদ্ধে কোন মামলা রুজ্জু করা হয়নি বলেও থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *