Latest:
Default Ad Banner

Today: 25 Feb 2020 - 05:30:16 am

দেবদাসী প্রথা : ভারতের জাতীয় লজ্জা !

Published on Saturday, January 18, 2020 at 2:09 pm 10 Views

 

দেবদাসী প্রথা : ভারতের জাতীয় লজ্জা !তথ্যসূত্রঃ শত শত বছর ধরে ভারতীয় মন্দিরগুলোতে চলে আসছে ‘দেবদাসী’ নামে নারী নির্যাতনের নির্মম এক ধর্মীয় প্রথা। ধর্মীয় প্রথার আড়ালে নারীকে ভোগ করাই এই প্রথার মূল উদ্দেশ্য?

মুলত তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ, কর্নাটক, মহারাষ্ট্র ও ওড়িষার দরিদ্র ও তথাকথিত নীচু জাতের মা-বাবা’রা তাদের কুমারী মেয়েকে ঋতুবতী হওয়ার আগেই নিয়ে যায় মন্দিরে। সেখানে প্রথমে কুমারী মেয়েদের নামমাত্র মূল্যে নিলাম করা হয়। তারপর মন্দিরের প্রধান পুরোহিত ভগবানকে উৎসর্গের নামে কল্পিত দেবতার সঙ্গে কুমারী মেয়েদের তথাকথিত বিয়ে দিয়ে দেন। বিয়ের পর গরিব ঘরের সেই মেয়ে হয়ে যায় দেবদাসী বা যোগিনী। আক্ষরিক অর্থে সেবাদাসী বা যৌনদাসী।

এরপর সারা জীবন অন্য কোনো পুরুষকে মেয়েটি আর বিবাহ করতে পারে না। নামমাত্র খাওয়া-পরার বিনিময়ে মন্দিরেই কাটাতে হয় তাদের সারা জীবন। বলা বাহুল্য উৎসর্গের পর দেবদাসীকে ভোগ করবার প্রথম অধিকার থাকে প্রধান পুরোহিতের। যৌন লালসার শিকার হতে হয় সমাজের উচ্চবর্গীয় ধনী কিংবা সামন্ত প্রভুদেরও। আর শেষ পর্যন্ত এই সমস্ত হতভাগ্যদের অনেকেরই ঠাই হয় যৌনপল্লিতে।

১৯৮৮ সালে এ প্রথা ভারতে নিষিদ্ধ করা হলেও আজও তা বন্ধ হয়নি। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি, এক জনস্বার্থ মামলায় ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট নিষিদ্ধ হওয়ার পরও কেন মন্দিরগুলোতে দেবদাসী প্রথা বন্ধ হয়নি তা জানতে চেয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে একটি নোটিশ পাঠিয়েছেন।

সাম্প্রতিক ২০১৩তে ন্যাশানাল হিউম্যান রাইটস কমিশনের সমীক্ষায় দেখা গেছে ভারতে আজও অন্তত সাড়ে চার লক্ষ দেবদাসী রয়েছে। এদের মধ্যে যৌবন-উত্তীর্ণ অনেকের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা খুবই শোচনীয়। অনেকেই আজ রাস্তার ভিখারি। রূপ-যৌবন হারানোর পর ‘না মন্দিরে, না ঘরে’ কোথাও যেন ঠাঁই নেই এই দেবদাসীদের।

যাঁরা বলবেন দেবদাসী প্রথা বন্ধ হয়ে গিয়েছে তাঁদের জন্য একটি উদাহরণ দেওয়া যাক।

তামিলনাড়ুর মাদুরাইতে ইয়েঝাইকথা আম্মান মন্দিরে কিশোরী মেয়েদের অর্ধনগ্ন করে দেবীরূপে পুজো করা. হয়। শুধু তাই নয় ধর্মের অজুহাত দেখিয়ে তাদের বাধ্য করা হয় উন্মুক্ত বক্ষে নাচতে।

জানা গিয়েছে, বহুদিন ধরেই ওই মন্দিরে এই রীতি চলে আসছে। যৌবনে পা দেয়নি এরকম ছোট মেয়েদেরই ওই মন্দিরে দেবীরূপে পুজো করা হয়। তাদের শরীরের উপরের অংশে থাকে না কোনও বস্ত্র। থাকে কেবল অলংকার। তাই দিয়ে ঢাকতে হয় বক্ষ। মোট ১৫ দিন ধরে থাকতে হয় মন্দিরের পুরোহিতদের কাছে। সম্প্রতি একটি ভিডিও সামনে এসেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে অর্ধনগ্ন অবস্থায় মন্দিরে প্রবেশ করছে সাত জন মেয়ে। আরেকটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ওই অবস্থাতেই মন্দির চত্বরে স্নান করছে একটি মেয়ে। এই খবরটি সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। নির্দেশ দেওয়া হয়, কোনওভাবেই যেন ওই মেয়েদের হেনস্তা না করা হয়। পাশাপাশি ওরকম বিনা পোশাকে রাখা যাবে না তাদের।

 

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *