Latest:

Today: 06 Dec 2019 - 05:28:52 am

এই সময়কার অতি জনপ্রিয় কবি~বিদ্যুৎ ভৌমিক এর সম্পূর্ণ পরিচিতি সঙ্গে কবির অন্যতম একটি শ্রেষ্ঠ কবিতা

Published on Monday, November 25, 2019 at 6:42 am 10 Views

simantotimes24

*কবি পরিচিতিঃ--- কবি~বিদ্যুৎ ভৌমিক
--------------------------------------------
[ এই সময়ের দুই বাংলার জনপ্রিয় কবি বিদ্যুৎ ভৌমিক ।
            জন্ম ১৯৬৪ সন, ১৬ - ই জুন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে
হুগলি জেলা তারই একটি ঐতিহাসিক শহর শ্রীরামপুরে ।
পিতা ঈঁশ্বর পীযূষ কান্তি ভৌমিক । মাতা শ্রীমতি ছায়ারানী
ভৌমিক । একমাত্র কবিতাকেই উপজীব্য করে  ভারত ও
বাংলাদেশের পাঠকবন্ধুদের কাছে তিনি আদর ও সন্মান
পেয়ে চলেছেন । প্রায় ৩০ - ৩৫ বছর ধরে নিয়মিত ভাবে
প্রথম শ্রেণীর বেশির ভাগ পত্র পত্রিকায় লিখে চলেছেন -
কবিতা । কবি বিদ্যুৎ ভৌমিক প্রসঙ্গ বলতে গিয়ে প্রখ্যাত
কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় বলেছেন, — এ সময়কার তরুণ
কবিদের মধ্যে কবি বিদ্যুৎ ভৌমিকের কবিতা পড়লে
মনের গঠনমূলক সৃজনশীল ভাবনা চোখের সামনে এসে
ধরা পরে " *** আজ সমস্ত বিশ্বের বাঙালি পাঠকবন্ধুদের
আন্তরিক অনুরোধে কবি বিদ্যুৎ ভৌমিককে নিয়ে একটি
বিশেষ সংখ্যা নিবেদিত হোলো > সম্পাদক বজ্রকণ্ঠ ¤¤

            
¤ কবি বিদ্যুৎ ভৌমিকের কাব্যগ্রন্থ ¤

১ /কথা না রাখার কথা ( আনন্দময়ী প্রকাশনী )
২ /গাছবৃষ্টি চোখের পাতা ভিজিয়ে ছিলো ( আনন্দময়ী )
৩ /নির্বাচিত কবিতা ( পত্রাবলী প্রকাশনী )
৪ / নীল কলম ও একান্নটা চুমু ( ই-বুক কাব্যগ্রন্থ - প্রকাশন
বাংলাদেশের > ছোটকবিতা. কম )
৫ / রেডিও করতোয়া বগুড়া থেকে প্রকাশিত হতে চলেছে
কবিকণ্ঠে কবিতা "— শীর্ষকএকক অডিও এ্যালবাম ।
            ৬ / আগামী ২০১৭ কলকাতা বইমেলায় প্রকাশিত হতে
চলেছে কবিতা সমগ্র" - ( পত্রাবলী প্রকাশনী )

¤ কবি~বিদ্যুৎ ভৌমিক - এর পুরস্কার ও সম্মাননা ¤

২০০০ USA থেকে American Biographical Institute
তাঁকে MAN OF THE YEAR - এবং ওই একই সংস্থা —
থেকে ২০০৬ কবি বিদ্যুৎ - কে WORLD MEDAL OF
FREEDOM সন্মান ও পুরস্কার দেয় । বাংলাদেশের on
Line Mag ChhotoKabita. Com থেকে ২০১৬ শ্রেষ্ঠ
কবির সন্মান ও পুরস্কার । ২০১৩ - সন কবিকে কবিতার
শ্রেষ্ঠত্বের জন্য স্বাধীনতা সংগ্রামী ঈশ্বর শিশির গাঙ্গুলী
স্মৃতি পুরস্কার ও সম্বর্ধনা দেওয়া হয় । ২০১৫ সংবাদ এখন
সংবাদ পত্রিকা থেকে * বাংলা শ্রী * পুরস্কার ও সম্মাননা ।
RADIO KARATOA - বগুড়া থেকে বিশেষ  সম্বর্ধনা  ।
২০১৪ সমতা পরিষদের পক্ষ থেকে কবি বিদ্যুৎ ভৌমিক-
কে সশ্রদ্ধ সংবর্ধনা দেওয়া হয় । ২০০৯ - পশ্চিমবঙ্গ বাংলা
আকাদেমি ( কলকাতা ) সদ্-ভাবনা "-পুরস্কার লাভ । এ -
ছাড়া তিনি ১৯৯৭ - দক্ষিণ কলকাতা ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক
পরিষদ থেকে সম্বর্ধনা লাভ করেন সেবা উৎসব উপলক্ষে ।

             ¤ কবি~বিদ্যুৎ ভৌমিকের কবিতার সংখ্যা ¤

প্রায় দশ হাজারের অধিক

             কবিতা পাঠ ও পরিবেশনঃ--  

বিভিন্ন প্রোফেশন্যাল মঞ্চে কবিতা পাঠ ও আবৃত্তি ।
কলকাতা দূরদর্শন সহ বেশ কিছু বেসরকারি টিভি
চ্যানেলের আমন্ত্রণে নিয়মিত ভাবে কবিতা পাঠ এবং
কবিতানির্ভর সাক্ষাৎকার দিয়ে চলেছেন । এ ছাড়া -
RADIO JU90.8 MHZ FM - এর অনুষ্ঠান পরিচালনা ও
নিয়মিত ভাবে কবিতা পাঠ ও সাক্ষাৎকারে অংশ গ্রহণ ।
এবং on line RADIO KARATOA - র সাথে যুক্ত ।
             -----------------------------------------------------------------
¤ হৃদয়তান্ত্রিক ধ্রুপদী কবিতা ¤

           ¤¤ জল  ছোঁয়া  রোগ  এবং  মৃত্যুঞ্জয়ী  দর্পণ ¤¤

    ¤ বিদ্যুৎ  ভৌমিক ¤                                                                                                                                                                                                                         ------------------------------------------

ক ¤ ]
******
পাশের চেয়ারে ধ্যানব্রক্ষ্মে গভীর আরক্ত
কোথাও কী তপস্যা ভাঙার মন্ত্র হৃদয় ফুরিয়ে স্বপ্ন বদল করে
এই দু’হাত বুকের মধ্যে স্মৃতি ছুঁয়ে দেখে ; পাঁচ আঙুলের ছাপ লাগে স্বর্গের অলিন্দে ****
প্রতিদিনের অসুখ চরিত্র পতনের শব্দ শুনতে - শুনতে চেনা রাস্তা
দিয়ে ফিরে আসে ! এই তাপ যেমন গভীর ; ঠিক সেরকম অপ্রমেয়
উপমাহীন । তবুও কোথাও লুকিয়ে হারায় মন পোড়ানোর কৌশল
পাশের চেয়ারে অশরীর ক'রে রেখেছে আমায় —
এখানে স্মৃতি নষ্ট হতে - হতে দৃষ্টিও ভুলে যায়  !
কেউ একজন অন্ধকার সিঁড়ির কাছে চিরঋণীর মতো চেহারায়
নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে আছে  ! অথচ ভালোবাসা মৃত্যু সইতে পারেনা ;
এক বেলাও  !
খ ¤ ]
*****
যদিও বৃষ্টির দিনে কিছু অসংলগ্ন ভুল
আমাকে সঙ্গে নিয়ে ভেসে গেছে মধ্যরাতে মায়া আকাশে
চিরজীবনের স্রোতে স্বভাবতই নদীর মত শব্দ ওঠে —
কথা ছিল, এখানে নবনীতার সঙ্গে চোখ বন্ধ করে ডুবে যাব,
ভেসে যাব সোহাগ নদীতে  ! তবুও তো ভেতরের সব ঢেউ
দেবতার মত নিরাকার ****
এসবের মধ্যে বহুকালের ঋণ দয়া চায় ক্ষমতা চায়
ভ্রাম্যমাণ দুঃখের ভেতর —
পাশের চেয়ারে একাকীত্ব আঁধার পেতে বসে আছে
চিরকালীন স্বপ্নে সাক্ষী থাকা সহস্র ছায়ারা অঘমর্ষী
এভাবে সমস্ত দিক থেকে বহতা স্তব্ধতা মুকুটহীন রাজার মত
বসন্তে জ্বলে ওঠে !
এই চেয়ার থেকে অবিশ্বস্ত হুল্লোড় শুনতে শুনতে
বাকি পথ মন্দ ভাগ্য নিয়ে ভ্রাম্যমাণ  !
গ  ¤ ]
*****
কোনো কিছুর জন্য ভুলতে পারি কী তোমায়
মনে - মনে ভেতর গর্ভের শরীর চিনি, — বুকের মধ্যে নীল জ্যোৎস্না কবিতার মতো প্রিয় প্রতিবেশী *** এই অন্তরীক্ষ যেখানে প্রতারক
স্মৃতিরা রাতের জন্য চোখ বুজে অপেক্ষায় থাকে অহর্নিশ একটানা  ! এদের সবাই মানুষ সেজে থাকতে চায় ,
শেষ পর্যন্ত এদের কারণে আমার নিঃসঙ্গ গোটা রাত জাগা  !
কোথাও ভাসমান ভাবনায় অতিরিক্ত অবিশ্বাস মেখে থাকে মায়াময় একশটা আহত শোক ****
এই চেয়ারে ঐশ্বরিক কেউ বোসে না থাকলেও ; কেউ একজন
মৃত্যুর মত স্থির হয়ে ঘুমিয়ে থাকে স্মৃতি বিছানায় —
কোন কিছুর জন্য ছাদের কার্নিস থেকে ছুঁড়ে ফেলে দেইনি তোমার অজস্র অক্ষর মালা  ! অথচ এরকম অনন্ত অসুখ অবলা নিরীহ
ছিল সতেরো বছর  !
ঘ  ¤ ]
*****
সমস্ত ব্যর্থতা অসহবাসের চেয়ে কঠিন ও কঠোর - ভীষণ ধারালো
তবুও স্তব্ধ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখি আমার ছায়াকে সতেরো বছর  !
সেও দুঃখে ও শোকে নির্ঘুম ঋণী হয়ে আছে ****
এই জানলা দিয়ে চাঁদ এসে বিছানায় সারাদিন ঘুরছে - ফিরছে
কাঙালের দীর্ঘশ্বাস তবু নিঝুম বিষণ্ণ, — সমস্ত স্বপ্নগুলো প্রবল
বৃষ্টিতে ধুয়ে যেতে - যেতে যাবতীয় ইচ্ছার ভেতর মরে পচে গেছে ।
শেষ একবার নিভৃতে চলে এলে অস্তিত্ব নিজের হৃদয়ে
একলক্ষ বার পদাঘাত করে  !
শেষ একবার সহজ সত্যে প্রতিপ্রশ্ন ছুঁড়ে দেই মৃত্যুঞ্জয়ী দর্পণে ;
আমি কী মরে যাব ? আমি কী পাখি - ফুল - ফল, অনেক কিছু
হব  ? কি জানি মন-তো ব'লছে না সেই কথা !
ঙ  ¤ ]
*****
সবটাই অমোঘ দোষ ; অধরোষ্টহীন কান্নায় ভাসে জল ছোঁয়া রোগে এক - একটা দুঃখ ; আমি ওদের ভালোভাবে চিনি, —
এই আধোজাগা সময়ে সেই চেয়ার এককালের স্পর্শে
অতল প্রেমহীন  ! চোখের কাছে অচেনা কিছু চোখ ; আজব দর্শক
অন্ধকার রাতে মাথার কাছে ওরা কেউ কেউ শ্বাসকষ্টে কাঁপে —
এখানেও ক্ষমা চাওয়া চোখ বুজে অনুসরণ কবিতা পংক্তি ধরে
এখানেও মনের ভেতর জেগে ওঠে দীর্ঘকার ছায়া
অর্ধেক নিঃসঙ্গ এবং নিঃশব্দে নীরব ভিন্ন এলোমেলো  !
তাকে নিয়ে ভাবা বিশ্ব - ভুবনময় , ওকি মৃত্যু ; নাকি অন্তরীক্ষে
স্মৃতি ছবি মেলে ধরে অনাদিকালের প্রোজেক্টারে  !
এই চেয়ারে পৃথিবীর সব দুঃখ একাই পেতে - পেতে
সিংহাসন হয়ে আছে ;
অথচ আঙুলের কড় গুণে মৃত্যু দিন ভাগ হয়ে গেছে  !
চ  ¤ ]
*****
ত্রিভাঁজ সময়, বুকের ভেতর কথাপাখি ; যেন নিভৃত প্রহরী
ঘরভর্তি মিশে যায় নম্রতার বিবর্ণ ধুলো
কেউ অবিশ্বস্ত, কেউ কেউ বিপরীতে বিরল প্রজাতির ছায়া
খুঁটে খায় ! ওই রাস্তায় চোখ বাঁধা কঙ্কাল হাঁটে বারমাস, —
ওদেরকে চিনি, ওরা রাতে আঁধারে জাদুঘরের আলো নিভিয়ে দেয়
রোজ । কী রকম গুণ টেনে উল্টে যায় দরাজ শিহরণ
তবুও যে রাস্তায় - রাস্তায় আকাশ ভাঙা মেঘ লীলাময় কান্নায়
রাতের জ্যোৎস্না ভেজায় —
এটাতো এই চশমায় স্বপ্ন জাগাতে চেয়ে ছদ্মবেশী গুপ্তচরকে বিছানা থেকে তুলে অলঙ্কৃত আদিখ্যেতার মলম লাগিয়ে দেয়
অতলান্ত ক্ষতে ! এই চেয়ারে বহু শতকের মায়াময় কৌতুক একজন কবির রহস্যময় শোকে প্রেত ও ঈশ্বরের স্পর্শে জন্মঋণের ফর্দ নিয়ে জেগে থাকে  !!

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *