Latest:

Today: 08 Nov 2019 - 09:54:34 pm

দশম শ্রেণির সেই  মেধাবীছাত্র, রণাঙ্গানের সাহসী বীর মুক্তিযোদ্ধা: মহানন্দা নদীর ঘাট এলাকায় ভয়াবহ যুদ্ধের বর্ণনা দিলেন

Published on Tuesday, November 5, 2019 at 7:34 am
simantotimes24
মোঃ আনোয়ার হোসেন, হরিপুর উপজেলা প্রতিনিধি :
বৃহত্তর দিনাজপুর জেলার পশ্চিমে সীমান্ত ঘেষা ঠাকুরগাঁও মহকুমার হরিপুর উপজেলার রনহাট্রা চৌরঙ্গী গ্রামের মৃত আলহাজ্ব হিম্মত আলির ছেলে মোঃ মজিবুর রহমান। পাচঁ ভাই ও চার বোন ও ভাইয়ের মধ্যে তৃতীয় ছেলে, টকবগে তরুন দশম শ্রেনীর মেধাবী ছাত্র রোল নং দুই। যুদ্ধেপরে  এসএস সি পাশ করেন ,একাত্তর সালে স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হলে, পরিবারের সাথে দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যায়। কিন্তু দেশমাতৃকার চেতনায় ঘরে বসে থাকতে পারেনি।হঠাৎ একদিন পরিবার কে না জানিয়ে মুক্তি যুদ্ধে অংশ গ্রহনের জন্য ১০-৫-১৯৭১ তারিখে ভারতে প্রতিরামপুর ট্রেনিং সেন্টারে চলে যাই।যুদ্ধের ট্রেনিং নেওয়ার পাশা পাশি মেডিকেল ট্রেনিং প্রশিক্ষণ গ্রহন করি। পাঁচ থেকে ছয় হাজার প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে থেকে মাত্র ১৪ জনকে বাছাই করেছিলেন, তারমধ্যে আমি সেই দিন নির্বাচিত হয়েছিলাম। ট্রেনিং শেষে চাপাইনবাবগন্জ এলাকার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে,সাত নাম্বার সেক্টর কমান্ডারের অধীনে মুক্তি যুদ্ধে অংশগ্রহন করি,সেক্টর কমান্ডার ক্যাপ্টেন ছিলেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর ।প্লাটুন কমান্ডার ছিলেন মোঃ আজিজুর রহমান।সেকশন কমান্ডার ছিলেন ১ম লোকমান হোসেন,২য় আজহার মল্লিক ৩য় ভুলু তাদের নেতৃত্বে যুদ্ধ করি। আমরা সাতদিন ধরে সোনামসজিদের ভিতরে অবস্থান করি, পরে মহানন্দা নদীর পার এলাকায় অবস্থান করি।মাঝে মাঝে পার্শ্ববতী পাকিস্তানি ক্যাম্পে শত্রু বাহিনীর উপর আক্রমন চালাই, উল্লেখযোগ্য সহপাঠি ছিলেন, মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর,আব্দুল হাই,লোকমান,আজিজুর, গোলাম হোসেন,কদু,সাইফুদ্দিন,শিবগন্জে সর্বনারায়নপুর ভোলার জায়গায় ভয়াবহ যুূূূদ্ধে সাইফুদ্দিন শত্রু পক্ষের মটারশেলের সাইফুদ্দিনে মাথায় আঘাতে ঘটনাস্থলে তিনি মারা যায়,আমরা লাশ উদ্ধার তার পরিবার কাছে লাশ বুঝিয়ে দেই।  আমরা প্রতিনিয়ত শত্রুপক্ষের উপর হামলা করে ব্যাপক ক্ষতি সাধন করি।এসেলার, মেশিনগান চালানোর অভিজ্ঞতায় থাকায়  মহানন্দা নদীরপারে ভয়াবহ যুদ্ধে জয় লাভ করি,নদীর পারে বাড়িতে আশ্রয়ে স্থানীয় জনগন খাওয়ার ব্যবস্থা ও প্রচুর সাহায্য সহযোগীতা করে,যুদ্ধ শেষে ৬০ কিলোমিটার হেঁটে রাজশাহী চলে যাই এবং সেখানে বিজয় উল্লাস করি। আমি পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে চাকুরী করে সার্জেন্ট পদে অবসর করি। সেনাবাহিনীতে প্রশিক্ষকের দায়ীত্ব পালন করি,মুক্তিযুদ্ধ কালীন সময়ে ডুকমেন্ট  মুক্তবার্তা নাম্বার -৫০৪৩। জীবনে শেষ বয়সে স্বাধীনতার সফল দেখে যেতে চাই। ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু প্রেসিডেন্ট ভবনে  ডিউটি ছিলাম তার সঙ্গে দেখাও হয়েছিল অনেক কথা বার্তা হয়েছিল। আশা রাখি ভবিষৎ বাংলাদেশ
সোনা বাংলা হবে।
Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *