Latest:

Today: 17 Nov 2019 - 11:16:05 am

শ্রেষ্ঠত্বের গুণ বিচারে অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি~বিদ্যুৎ ভৌমিক এর কবিতা নিয়ে কিছু কথা 

Published on Saturday, November 2, 2019 at 4:28 pm 2 Views

simantotimes24

~একমাত্র কবিতারাই আমার স্বাধীন ভাবনার মূল উচ্চারণ~             ~বিদ্যুত ভৌমিক~                                                          ----------------------------------------

~কবিতাঞ্জলি~

চোখের ভেতর সেই নদীটা লুকিয়েছিল
মনের মধ্যে না-বলা কথার ঝড় থেমেছে
হঠাৎ কেন স্বপ্নঘুমে সেই পাখিটা, —
ভিন্ন সুরে আকাশ দেখে গান  গেয়েছে  !
কী লিখব , কি লিখেছি , থাক  এখনি  ভেতর থেকে বেরিয়ে এলো  হাজার কথা ,
ভাসছি আমি সেই নদীতে  বহতা স্রোতে
বুকের মাঝে থাকছে  না আর  নীরবতা ! !

"আমার কবিতাকথা"~  লিখছেন কবি~বিদ্যুৎ ভৌমিক

সত্যি বলতে কি, আমি কবিতা লিখছি বেশ কয়েক
বছর-তো হবে ! বলতে পারা যায় ৩০ থেকে ৪০বছর !
এই দীর্ঘ সময়ের পথে আমি আমার কবিতাকে সঙ্গে
নিয়ে হেঁটেছি , অনেক বাঁধা, বিপত্তি, ঝঞ্ঝা,- এসব—
এসেছে ! আমি কিন্তু থেমে থাকিনি ! এই মূহুর্তে আমি
আমার একটা জায়গা বেশ পাকা-পোক্তো ভাবে করে
নিতে পেরেছি ! বিশ্বের বাঙালিদের  ( আমার কবিতার-
পাঠক ) কাছ থেকে যে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা পেয়ে
চলেছি, এটা কার ভাগ্যে জোটে ? যাই হোক, কবিতা
নিয়ে আলোচনা করছি, সেই সঙ্গে বলে নেই রেডিও
করতোয়ার সম্পাদক আমার বিশেষ বন্ধুজন , তাঁর
আন্তরিক অনুরোধে আমার একগুচ্ছ মৌলিক কবিতা
এই সংখ্যায় আপনাদের ভালোবেসে উপহার  দিলাম !
অনুগ্রহ করে মতামত জানাবেন~ বিদ্যুৎ ভৌমিক

~প্রেম~

সর্ত করে ভালোবাসতে চাইলে
অসম্ভব কিছু দুর্ভাগ্য
মনের কথা স্তব্ধ হয় অবেলায়  !
সেজন্য অবুঝ পায়ের চটিতে রাস্তার হিসেব কষে
বিপরীত দিকে ছোঁট ****
কবেকার অদ্ভুত প্রেত ধর্ম ভ্রষ্ট হয়ে নষ্ট চাঁদের দিকে
একান্তে রাত্রি যাপন করেছিল ;
সেই কারণেই
মাটিও হেসে উঠলো অতলান্তে এভাবেই  !

~কবিতাকথা~

কত রকম কথা ইদানিং আমার কানে আসছে, সব
কথার ভেতর বেশিরভাগ কথা ঠিক কবিতা  কিন্তু
নয় ! আবার অন্য সব শব্দ-বাক্য সুনিয়ন্ত্রিত ঠিক
নয়, এই কারণে অপ্রয়োজনীয় বাড়তি কথাকে শব্দ
অক্ষরে মালা গাথার সময়ও ইচ্ছা আমার মত একজন
অক্ষরকর্মীর স্বভাবেও নেই ! বাড়তি কথা শোনা, বলা
কিম্বা লেখাকে আমি বাজে কথাই বলি, সে জন্য ওই
সব শব্দ-বাক্য শুনতে ও পড়তে বিভ্রান্তিকর এবং
কটুগন্ধময় বলে আমি মনে করি ! আমি একটু অন্য
রকম ! আর পাঁচ জনের থেকে একেবারেই আলাদা ,
এই কারণে সবার সাথে আমার ঠিক মেলে না, নিজেকে
ওই এক বেঞ্চে বসাইও না ! অতি সহজ ও সফলভাবে
বলছি, এটাকে আবার আপনারা আমার অহংকার কিন্তু
ভাববেন না ! — বিদ্যুৎ ভৌমিক

~ধ্রুপদী কাব্য~

কাল সমস্ত রাত নষ্ট হতে-হতে মহা প্রস্থান নিতে
মন ভ্রমণের কাহিনীর পাতা উঠোনে
ছড়িয়ে পড়েছিল আঢাকা জ্যোৎস্নার আলো~
চুপচাপ দাঁড়িয়ে
রাত্রির বনবাসী বৈষ্ণব চাঁদকে বৈষ্ণব পদাবলী
মন ভিক্ষা করতে চেয়েছিলেন এক নির্ভীক ঈশ্বর, —
চিররীণ চৈত্র কী বৈশাখী ঝড়ের দাপটে
ফুল~চন্দনের গন্ধ এক-কালীন উৎসব প্রহরে
ভুল ভুল নীরবতায় মুখ থুবড়ে পড়েছিল পদ্মা বক্ষে  !
এই রেখাগুলো কবে থেকে
হৃদয়তান্ত্রিক হয়ে আছে ; অথচ ঘুম কাটেনি রাতচড়
পাখিদের  ! এটাও এক দোষ  !!

~কবিতাকথা~

এই সময়কার সবচেয়ে স্বনির্ভর ও স্বনিয়ন্ত্রিত লেখক
ও কবি হয়ে উঠতে আমি অহর্নিশ  আদ্যোপান্ত চেষ্টা
করে চলেছি ! ফরাসি সিম্বলিস্ট বা সংকেতবাদী যে
কবিতা আন্দোলন বোদলেয়ার, মালার্মে, র‌্যাবোঁ, ইয়েট,
এলিয়ট-এর হাত ধরে বিশ্ব কবিতাকে প্রভাবিত
করেছিল , আমাদের দেশে জীবনানন্দ, সুধীন্দ্রনাথ ,
বিনয় মজুমদার সেই পথের সার্থক অনুগামী ! তাঁদের
কবিতায় তাই প্রতিটি রঙ, ধ্বনি, গন্ধ, ঘৃণা, প্রেম প্রকৃতি
বৃত্তি, প্রতিটি দৃশ্যগ্রাহ্য বস্তু প্রতিমা কোনো না কোনো
ভাবে যুক্ত হয়ে আছে এক একটি প্রতীক বা সংকেত-
এর সাথে ! যাই হোক আমার কবিতার জগৎ কোনো
সীমাবদ্ধ গন্ডীতে আবদ্ধ নয় ! আমি এটাও বিশ্বাস
করি, আমার ভারত ও বাংলাদেশের আপাময় রসগ্রাহী
পাঠকেরা, কোনো বিশেষ সম্প্রদায়ের নন ! ভাবনাটা
পরিষ্কার করে নেওয়া দরকার, অনেক সময়  আমার
কবিতার দর্শন পজিটিভ হলেও পাঠকের দর্শনে
গলদ থেকে যায় ! ফলে কবি ও পাঠকের মধ্যে মননের
বিনিময়ের অদেখা শৃঙ্খল ভেঙে পড়ে ! অনেক সময়
আমাকে সামনে পেয়ে সরাসরি অকপটে আমার সৃষ্টির
অর্থাৎ কবিতা সম্পর্কে বলেন, যা তাঁদের কাছে কোনো
ভাবে পরিষ্কার নয় ! — বিদ্যুৎ ভৌমিক

~কথা চোখ এবং জল রঙা ছবি~

সব কথাতেই জল ঢেলে দিলে আগুন হবে চোখ
একদিন আমিও নরক দরজায় দাঁড়িয়ে
বিবেক শূন্যের কাছাকাছি চলে এসেছিলাম  !
মৃত্যুর মধ্যে একটা জন্মের ইঙ্গিত মিলেছিল সেইদিন, —
কথা বলতে বলতে মুখে ফেনা উঠেছিল মাতৃজঠোরে,
অথচ বালিহাঁস গুলো উড়ে না আসা পর্যন্ত
ঠায় এক যুগ আমি স্তব্ধ হয়ে ছিলাম  !
একদিন
এই উঠোনে স্বপ্নদোষের সীমারেখা পেরিয়ে
বকুল গন্ধের সাথে মিশে একাকার হয়ে গেছিলাম ***
তুই দেখিস এই ঘাটে নৌকা ডুববেই  !

~কবিতাকথা~

কবিতা নিজের গতিতে এগিয়ে যায় !  কখন যে ঘাড়
ভর করে কবিতা, সেই জানে যাকে তাড়িয়ে নিয়ে যায়
কবিতা ! ভেতরের যন্ত্রণা থেকেই কবিতার জন্ম !
কবিতা নিজের অনুভূতির গহীন - গভীর - গহন থেকে
উঠে আসার কথারই প্রতিধ্বনি ! সেই প্রতিধ্বনি, —
অপেক্ষা - হতাশা, সেই সঙ্গে ঐতিহ্যের প্রতি সত্যের
আস্থাই বোধহয় আমার কবিতার মূল সুর ! মাঝেসাঝে
আমি শ্রীরামপুর হুগলি থেকে  ( ভারতের পশ্চিমবঙ্গের
ঐতিহাসিক স্থান ) তারকেশ্বর লোকালে অর্থাৎ ট্রেনে
চেপে কামারকুন্ডু স্টেশনে নামি, এরপর বর্ধমান কর্ড
ধরে পোড়াবাজার-এ আসি ! সেখান থেকে গ্রামের
ধুলো সর্বাঙ্গে মেখে আঁকাবাঁকা পথে চলতে চলতে
বাউল শিল্পী মদন দাসের ভিটেতে গিয়ে উঠি ! মদন
বাউলের মনটা গেরুয়া রঙের মত, যে কারণে ওর
কাছে শ্রীরামপুর হুগলি থেকে দৌড়ে দৌড়ে যাই  ! ও
আমার শ্রীরামপুরের বাড়িতে অনেকবারই এসেছে !
মদন বাউল আমার বেশকিছু কবিতাকে গানের
আঁকর দিয়েছে ! — বিদ্যুৎ ভৌমিক

~মৃত্যুপথ এবং বিপরীত মেরু~

শেষ বসন্তের মতো ক্ষীণায়ু এই বেলা , তবুও তিনি অতি
প্রাচীন কালের পোশাক শরীরে জড়িয়ে একা এই ভাবে
বিপরীত দিকে চলেছেন ****
পারম্ভিক ধুলো উড়লে বাড়ি ফিরতি রঙ ময়লা রাতে
আকাশশূন্য ক'রে অশ্রু ঝরেছে থেকে~থেকে টিপটিপ  !
ভস্মমেঘ থেকে কিশোরী একদল পাখিরা বেলা যায় -
বেলা যায়, — ব'লে বিশ্বব্যাপী ডানার ঝাপটে
দিন-হারানো ব্যর্থতায় মধ্য-গগনে
মৃত্যু নিয়ে ডোবে হতাশ নির্জনে  !
ঘুম ছিলনা এতটুকু পুষ্পশাখার পাখে
স্বপ্নহারা সন্ধ্যাবেলা মৃত্যু দুয়ার খুলে
কে এলেগো , — কে এলেগো , কইতে~কইতে রাত
ফুরালো মিললান্ত সব ফুলেদের  ! এরপর স্বপ্ন ভেঙে
স্বর্গরথ রচনায় আদ্যোপান্ত সহবাস জীবন~মৃত্যুর  !!

~কবিতাকথা~

ইদানিং ভীষণ ব্যস্ত হয়ে পড়েছি, — দিনরাত শুধু লেখা
লেখা , No বিশ্রাম ! কবিতার সাথে দীর্ঘদিন সহবাস
চলেছে আমার ! এটা বিশ্বের পাঠকদের জানা হয়ে
গেছে ! আমি মনে করি প্রত্যেক মানুষেরই একটা কথা
মনে রাখতে হবে, — সব সময় নিজের প্রতি শ্রদ্ধা,
প্রেম, বিনয়, ভালোবাসা, সর্বোপরি আত্মবিশ্বাস থাকাটা
প্রত্যেক কবি, লেখক ও শিল্পীর থাকটা বাঞ্ছনীয় ! এটা
থাকলে একদিন সেই মানুষটির জীবনে সাফল্যের সূর্য
উঠবেই ! জীবনবোধের ইঙ্গিত যদি না টের পাওয়া
যায়, তাহলে কোনো সৃষ্টি-ই কার্যকর হবে না ! এই কথা
ভুলে গেলে চলবে না ! — বিদ্যুৎ ভৌমিক

~ঈশ্বর ও প্রেত~

শেষ পর্যন্ত দুঃখ প্রকাশের জন্য
আমিও স্তব্ধ হয়ে ছিলাম এই খানে *****
পাথর চোখ মেলে তুমি আছ মন খারাপের কাব্য নিয়ে
উড়োনা  ; এভাবে উড়োনা তুমি—
যে কোন পথ কবিতার চেয়ে অনেক বেশি চলছে লম্বা
রেখা টেনে এগিয়ে গেছে কালবেলায়  !
শরীর ভাসিয়ে ছিল
মহাপ্রস্থানের পথে ঈশ্বর ও প্রেত , তবুও কবেকার রাত
নিয়ে রোজ রোজ এভাবেই চলতে চলতে দেখা হবে, —
কথা না রাখার কথা "— তবুও-তো কথা ****
অদ্ভুত অশেষ কৃতজ্ঞতায় দর্পণে দেখা হয় পরস্পরের
ইহলোক এবং পরলোক  !!

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *