Latest:

Today: 16 Nov 2019 - 01:01:38 pm

ডিমলায় পহেলা বৈশাখে মঙ্গল শোভাযাত্রা : মিলিনিয়াম স্কুলে পান্তা-ইলিশ 

Published on Monday, April 15, 2019 at 5:14 am 1 Views

ডিমলায় পহেলা বৈশাখে মঙ্গল শোভাযাত্রা মিলিনিয়াম স্কুলে পান্তা-ইলিশ  হামিদা আক্তার স্মৃতি : সারা দেশের ন্যায় পহেলা বৈশাখ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ বর্ষবরণে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে বাংলা নববর্ষ বরণে নেওয়া হয়েছে নানা কর্মসূচী। দিনের শুরতেই একটি বর্নাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়। এ শোভাযাত্রায় নানা পেশাজীবি মানুষ নানান রঙগে বাঙ্গালীর সাজে হাতে কাস্তে কাঁধে লাঙ্গল নিযে কৃষক রুপে দেখা যায় শোভাযাত্রায়। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সেজেছে চোখে পড়ার মত। বউ-শাশুড়ি, রীতিমত জীবন্ত সাপ নিয়ে হাজির বেঁদে। আর বেদেনী রুপে কিশোরীকে মানিয়েছে ভালোই। বাঙ্গালীর সমাজ ও সংস্কৃতি নানা দিক তুলে ধরে নেমেছে হাজারও মানুষ ডিমলা শহরের আনাচে কানাচে। এ যেন এক মিলন মেলা বাঙ্গালীদের। পহেলা বৈশাখ বাঙ্গালীর এক আনন্দ উৎসাহের সেতুবন্ধন। বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু তৎকালীন সময়ে বাঙ্গালীদের মাঝে সকল ভেদাভেদ ভুলে এক একই সুতোয় বাঁধতে বলেছিলেন “তুমি কে ? আমি কে ? বাঙ্গালী বাঙ্গালী”!! সেই যে বঙ্গবন্ধুর মুখে উচ্চারিত ধ্বনি আজ বাঙ্গালীদের মনে গেথে গেছে। তাই বাংলা বর্ষবরণে বাঙ্গালীরা আজ একই বাঁধনে নিজেদেরকে বাঁধতেই মঙ্গলশোভা যাত্রায় কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নেচে-গেয়ে বরণ করে নেয় পহেলা বৈশাখ বাংলাবর্ষ। মঙ্গল শোভাযাত্রার বর্ণাঢ্য র‌্যালীটি উপজেলা শহরের প্রধান প্রধান সড়কগুলি প্রদক্ষিন শেষে উপজেলা পরিষদ মাঠে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনের সাংসদ মুক্তিযোদ্ধা আফতাব উদ্দিন সরকার, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা তবিবুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুন নাহার মুন, ডিমলা থানার অফিসার্স ইনচার্জ মফিজ উদ্দিন শেখ প্রমুখ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন গণমাধ্যম কর্মীসহ সর্বস্তরের হাজারও মানুষ। দিন শেষে উপজেলা পরিষদ মাঠে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কিতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয় গ্রামীণ ঐতিহ্য'র যাত্রপালা ।  ডিমলায় পহেলা বৈশাখে মঙ্গল শোভাযাত্রা মিলিনিয়াম স্কুলে পান্তা-ইলিশ 
এদিকে বর্ষবরণে পহেলা বৈশাখে শিশু কিশোরদের বাংলার ইতিহাস ঐতিহ্য, বাঙ্গালীর সংস্কৃতি তুলে ধরতেই উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আয়োজন করা হয় নানা উৎসবের। শহরের প্রাণ কেন্দ্রে এমনি একটি প্রতিষ্ঠান ডিমলা মিলিনিয়াম স্কুল। অভিজ্ঞ ১১ জন শিক্ষক-শিক্ষিকার পাঠদানে গড়ে উঠছে ঐ প্রতিষ্ঠানে দেড় শতাধিক শিশু কিশোর। বাঙ্গালীর ইতিহাস ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির নানা দিক তুলে ধরে এসব কচিকাচা শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলা হচ্ছে নানা দক্ষতায়। অভিজ্ঞ ও দক্ষ পরিচালনা পর্ষদের উদ্যোগে নেওয়া হয় পহেলা বৈশাখ বর্ষবরণে নানা আয়োজন। অন্যতম ছিলো সকল শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিমন্ত্রন জানিয়ে খাওয়ানো বাঙ্গালীয়ানা খাওয়া। পান্তা ভাতের সাথে শুটকি ও আলু ভর্তা যেন জিহবায় স্বাদের ছোঁয়া। এছাড়াও মিলিনিয়াম স্কুলটি যেন দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছে নানা দিকে। শিশুদের শারীরিক কসরৎ, কুচকাওয়াচে অনন্য। শান্তি ঐক্য আর শৃখংলায় যেন অন্যতম শিশুরা। প্রতিষ্ঠানটিতে রয়েছে নাচ ও গানের শিক্ষক। রয়েছে শরীর চর্চা শিক্ষকও। শিক্ষা পাঠ দানে রয়েছে সব রকম ডিজিটাল ব্যবস্থা। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধুর কন্ঠে ও নির্মল আন্তরিকতায় সবদিক থেকে পরিপূর্ন্য রুপে গড়ে উঠছে এ বিদ্যালয়ের শিশু কিশোররা। বেশ কয়েকজন উপস্থিত অভিভাবকের মধ্যে পাউবো’র কার্য সহকারী মিজানুর রহমান মিজান জানান, আমার সন্তান মিলিনিয়াম স্কুলে পড়ে। এখানকার শিক্ষকদের আন্তরিক পাঠদানে আমার শিশু ছেলেটি পড়া-লেখায় মনোযোগী। ফলাফলও অনেক ভালো। স্কুলটিতে পরিবেশ অনেক ভালে,া ফলে বিদ্যালয়ের লেখাপড়া মান বেশ উন্নত।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *