Latest:

Today: 10 Nov 2019 - 05:24:44 pm

এসএসসি পাশ না করেও ভূঁয়া সনদে ডিএমএফ ডাক্তার ডিমলায় চিকিৎসক সেজে চিকিৎসা প্রদানে প্রতারিত অসহায় মানুষ

Published on Monday, January 14, 2019 at 12:17 pm 0 Views

এসএসসি পাশ না করেও ভূঁয়া সনদে ডিএমএফ ডাক্তার ডিমলায় চিকিৎসক সেজে চিকিৎসা প্রদানে প্রতারিত অসহায় মানুষ হামিদা আক্তার ও ফরিদুল ইসলাম : এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হয়েও ভূঁয়া সনদে ডিপ্লোমাধারী ডাক্তার সেজে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের চোখে ধুলো দিয়ে মানুষের জীবন-মরনের সন্ধিক্ষনে অসুস্থ্য রোগীদেরকে জিম্মি করে ভূঁয়া চিকিৎসা পত্রে চিকিৎসা প্রদান করে আসছেন ভুঁয়া ডিগ্রী ধারী ভূঁয়া ডাক্তার শহিদুল ইসলাম লায়ন। কোন ডিগ্রী অর্জন না করেও তিনি চিকিৎসা পত্রে যেসব ডিগ্রী উল্লেখ করেছেন তা তুলে ধরা হলো-ডিএমএফ-ঢাকা, ডিপ্লোমা ইন মেডিসিন ঢাকা, ট্রেনিং ইন আই এমসিআই (শিশু স্বাস্থ্য) ,আই সিডিডি আরপি মহাখালি-ঢাকা, মেডিসিন ,ডায়াবেটিক রোগে অভিজ্ঞ, বাথ ব্যাথা চর্ম-যৌন ,মা ও শিশু রোগে প্রশিক্ষন প্রাপ্ত, জেনারেল প্রাক্টিশনার এন্ড সার্জিক্যাল এক্সপার্ট, এক্স উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার, ডিমলা শাহ আহম্মদ আলী ডায়াবেটিক হাসপাতাল, নীলফামারী। রেজি নং-ঢা: ৯৮৪২। চেম্বার:-জয়দেব ফার্মেসী,সাইডনালা বাজার, জলঢাকা-নীলফামারী। শিক্ষা জীবনে মাধ্যমিক পর্যায়ে এসএসসি পাশ না করেও কিভাবে তিনি এসব ডিগ্রী লাগিয়ে চিকিৎসা সেবা প্রদান করে চলেছেন এ প্রশ্ন এখন স্থানীয় মানুষের মুখে মুখে থাকলেও যেন দেখার কেউ নেই। এ ভূঁয়া চিকিৎসায় ডিমলায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায়, নীলফামারী জেলার জলঢাকা পৌরসভা কার্যালয়ের নাগরিকত্ব/চারিত্রিক সনদপত্র ক্রমিক নং-৭১৬৬ তাং-৪ এপ্রিল/১৩ মেয়র এর স্বাক্ষরিত সনদপত্র মোতাবেক তিনি ডাঃ শহিদুল ইসলাম ল্য়ান,পিতা-মোঃ নজরুল ইসলাম, মাতা-শরিফা বেগম, গ্রাম- দঃ কাজিরহাট, ০৯ নং ওয়ার্ড পৌরসভা- জলঢাকা, জেলা নীলফামারী। দীর্ঘদিন ধরে শহিদুল ইসলাম লায়ন নিজেকে রাজশাহী বোর্ডের আওতাধীন মানবিক বিভাগে ১৯৯৯ সালে এসএসসি পরীক্ষায় শিক্ষা বর্ষ-১৯৯৭-৯৮, রেজি নং-৮০০০৫৫, রোল নং-৫৭৫৩২৯, সনদে জন্ম তারিখ-৫ মে’৮৪-এ প্রথম বিভাগ এবং একই বোর্ডে ২০০১ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় শিক্ষা বর্ষ-১৯৯৯-২০০০,রেজি নং-৮৯৮১৫২, রোল নং-৩৭৪৪৪৮-এ দ্বিতীয় বিভাগে ভূঁয়া উত্তীর্ণ দেখিয়ে ভূয়াঁ কাগজ পত্রে এবং পরবর্তীতে ২০০৩ সালে ঢাকা বোর্ডের আওতাধীন ৬ মাসের প্রশিক্ষনে মেডিকেল এ্যাসিটেন্ট এন্ড ফ্যামিলি প্লানিং (এলএমএএফ) কোর্সে মেম্বারশীপ রেজি নং- ২১০৯/২০০৩, রোল নং-৯০৭, রেজি নং- ০৬৫৮২ প্রথম বিভাগে উর্ত্তীণ, ২০০৪ সালে বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদ এর আওতাধীন ৩ বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা-ইন-মেডিকেল এ্যাসিটেন্ট (ডিএমএ) কোর্ষে পাশ করেন এবং ২০০৫ সালে ঢাকা বোর্ডের অধীনে ১ বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা-ইন মেডিসিন (ডিএম) কোর্সে রেজি নং-৯৮৪২/২০০৪, রোল নং-২৫৪২ দ্বিতীয় বিভাগে পাশ করেন মর্মে কাগজ পত্রাদি দিয়ে জীবন বৃন্তান্ত উল্লেখ পূর্বক তিনি ডিমলা শাহ আহম্মদ আলী ডায়াবেটিক হাসপাতালে ১৫ অক্টোবর ২০১২ সালে আবেদন করেন নিয়োগের জন্য। উক্ত কাগজপত্রাদির ভিক্তিতে কর্তৃপক্ষ তাকে সাময়িক নিয়োগ প্রদান করেন। কয়েক বছর পর কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হলে তার সকল শিক্ষাগত যোগ্যতার কাগজপত্রাদি এবং ডিপ্লোমার কাগজপত্রাদির অনুসন্ধানে ভূঁয়া প্রমানিত হওয়ায় তাকে ডায়াবেটি হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়া হয়। কিন্তু এরপরও ঐ সব ভূঁয়া সনদে আবারও চিকিৎসা সেবা প্রদান করতে থাকেন শহিদুল ইসলাম লায়ন। সম্প্রতি তিনি ডিমলা শাহ আহম্মদ আলী ডায়াবেটিক হাসপাতালের অপজিটে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা ও বাস্তবায়ন সংস্থার কার্যালয়ে অসুস্থ্য রোগীদের চিকিৎসা প্রদান কালে সরাসরি শহিদুল ইসলাম লায়নকে এসব ভুয়াঁ কাগজপত্রাদি উপস্থাপন করে প্রশ্ন করা হলে এ প্রতিবেদককে কোন উত্তর দিতে পারেননি। তিনি নিশ্চুপ থেকে কিছুক্ষন পর বলেন আমার ভূল হয়ে গেছে। আপনি দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বর্তমান ডিজিটাল যুগেও ভুঁয়া ডাক্তারী পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন কিভাবে ? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ দেশে সবই সম্ভব। শুধু মাঝে মধ্যে একটু অসুবিধা হয় এই আর কি ! পরে ঠিক হয়ে যায়। তিনি তার এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগে পাশ দেখালেও ডিএমএফ ডিপ্লোমায় বিজ্ঞান বিভাগে উত্তীর্ন হতে হয়। তাহলে তিনি কিভাবে এসব কোর্স করলেন ? এ প্রশ্ন এখন সকলের মুখে মুখে। এ প্রসঙ্গে কথা হলে ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সারোয়ার আলম বলেন, ডাক্তার না হয়েও ভূঁয়া ডাক্তার পদবী ব্যবহার করে চিকিৎসা সেবা ও পরিচয় প্রদান করলে তার বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। তাছাড়াও মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাইন্সিল আইন ২০১০ সালের ২৯(১) ধারায় অপরাধ সংঘটিত হলে এ অপরাধে তার বিরুদ্ধে ২৯(২) ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *