Latest:

Today: 16 Nov 2019 - 09:43:25 am

দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ

Published on Friday, September 7, 2018 at 5:54 am 0 Views

গত ৩ সেপ্টেম্বর দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় “গর্ভকালীন সেবা সম্পর্কে ধারণা নেই তিস্তা চরের মায়েদের” শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের একাংশের তিব্র প্রতিবাদ করেছেন নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের পরিবার কল্যান কেন্দ্রে সেবা দানকারী পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা রিনা বেগম। তিনি প্রতিবাদ লিপিতে উল্লেখ করেন, উক্ত শিরোনামে সংবাদটি আমার দৃষ্টি গোচর হয়েছে। সংবাদের একাংশে আমার নাম জড়িয়ে বলা হয়েছে পূর্ব ছাতুনামা চরে গিয়ে আমি সেবা দিয়ে সেবা গ্রহিতার কাছে অর্থ নিয়েছি। এটা সম্পূর্ন রুপে মিথ্যা ও বানোয়াট। একটি কল্প কাহীনি তৈরী করে ঐ পত্রিকার ডিমলা প্রতিনিধি জাহেদুল ইসলাম জাহিদ তার নিজস্বার্থ চরিতার্থে ব্যর্থ হয়ে তিনি এহেন সংবাদ প্রবিবেশন করিয়েছেন। প্রকৃত দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদঘটনা হচ্ছে-আমি জেলার ডিমলা উপজেলায় প্রতি বছরে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কিশোর-কিশোরী,মা ও শিশুদের স্বাস্থ্য পরিচর্যায় অধিকতর গুরুত্ব দিয়ে সেবা প্রদান এবং লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করায় আমাকে উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্টত্বের পুরস্কার প্রদান হয়। ধারাবাহিকভাবে আমি গত ১০ বছর ধরে এ সম্মাননা অর্জন করে চলেছি। আমার এ কাজের ধারাকে প্রতিহত এবং মানক্ষুন্ন করতেই একটি কু-চক্রি মহল সংবাদকর্মীকে দিয়ে এ মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করিয়েছেন। তিনি প্রকৃত ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, আমার কর্মস্থল থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দুরুত্বে চরাঞ্চলের পূর্ব ছাতুনামা চরে সাজেদা বেগমের প্রসবের ব্যাথা উঠলে তার একটি সন্তান প্রসব হয়। কিন্তু গর্ভফুল আটকে গিয়ে রক্তক্ষরন হতে থাকে। আমি সংবাদ পেয়ে নিজের জীবনের ঝুঁিক নিয়ে রাত আনু: ১০টায় পরিবার কল্যান কেন্দ্র হতে সাজেদা বেগমের দেবর চাঁন মিয়ার সাথে প্রায় ৮ কিলোমিটার হেটে গিয়ে ঐ প্রসূতির বাড়ীতে যাই। সেখানে কোন রকম যানবাহন না থাকায় অনেকটা ঝুকি নিয়েই প্রসূতিকে সেবা দিতে থাকি। আমি সিএইচবিএ এবং মিড ওয়াইফ প্রশিক্ষপ্রাপ্ত হওয়ায় ও আমার চাকুরী জীবনের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে প্রসূতির গর্ভফুল স্বাভাবিক ভাবে বের করেত সক্ষম হই। এতে করে মা ও শিশু উভয়েই স্স্থ্যু থাকে। মা ও শিশু সুস্থ্যতার পরেই আমি রাত আনু: ২টার দিকে ঐ চাঁন মিয়াকে সাথে নিয়ে ফিরে আসি। এ সময় তারা আমাকে অর্থ তো দুরের কথা একটি পানও খাওয়াতে পারেননি। কারণ প্রসূতি ও তার পরিবারের সদস্য চাঁন মিয়া দু:চিস্তাগ্রস্ত ছিলেন। অথচ নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যখন আমি প্রসূতির সেবা দিয়ে আসছি প্রতিনিয়ত তখন একটি কু-চক্রি মহল সংবাদকর্মীকে দিয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করিয়েছেন। শুধু তাই নয় ঐ সংবাদকর্মী গত ঈদুল আযহার পূর্ব থেকেই আমাকে ও আমার স্বামীকে ফোনে ও স্বাক্ষাতে বিভিন্ন ভাবে কৌশলে টাকা চেয়েছেন। যে টাকা দিলেই তিনি আর সংবাদটি প্রকাশ করবেন না। যেহেতু আমার টাকা নেওয়ার ঘটনাটি সম্পূর্ন রুপে মিথ্যা ও বানোয়াট সেহেতু আমি তার এ অনৈতিক চাওয়াকে প্রাধান্য দেইনি। এবং কোন ভাবেই সংবাদকর্মীকে টাকা দিতে রাজি হইনি। ফলে ঘটনার প্রায় ০৭ মাস পর তিনি এহেন মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করিয়েছেন। সংবাদকর্মী আমার কাছে টাকা চেয়েছেন এর স্বাক্ষী আমার কর্মস্থলে থাকা শাহেদা বেগম ও চাঁন মিয়া যিনি আামকে সাথে নিয়ে গিয়ে প্রসূতির সেবা নিয়েছেন। এ দু’জনের সামনেই সংবাদকর্মী মোটা অংকের টাকা দাবী করেন। কিন্তু আমি যে সাজেদা বেগমের কাছে অর্থ নিয়েছি তার প্রমান কি ঐ সংবাদকর্মী দেখাতে পারবেন ? প্রসূতির দেবর যিনি আমাকে সেবা প্রদানের জন্য নিয়ে গেছেন তিনি কি কখনও ঐ সংবাদকর্মীকে বলেছেন আমাকে তিনি অর্থ দিয়েছেন ? শুধুমাত্র আমর মানসম্মান ক্ষুন্ন করতে এবং সংবাদকর্মী তার নিজস্বার্থ চরিতার্থে ব্যর্থ হয়ে মিথ্যা ভিক্তিহীন সংবাদ পরিবেশন করেছেন ? আমি এর তিব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সেই সাথে ঐ সংবাদকর্মীকে সংবাদ পরিবেশনে আরো বেশী সর্তক থেকে সঠিক তথ্য, তথ্য নির্ভর ও নির্ভূল তথ্য দিয়ে খবর প্রকাশে সচেষ্ট থাকার অনুরোধ করছি। অন্যথায় দেশের প্রচলিত আইনে আপনার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনে বাধ্য হব।

প্রতিবাদকারী
রিনা বেগম
পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা
ঝুনাগাছ চাপানী, ডিমলা
নীলফামারী

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *